পুলিশ সদস্যদের অনিশ্চিত জীবন জাপন! - Ekushey Media bangla newspaper

Breaking News

Home Top Ad

এইখানেই আপনার বা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ: 01915-392400

নিউজের উপরে বিজ্ঞাপন

Friday, 20 December 2019

পুলিশ সদস্যদের অনিশ্চিত জীবন জাপন!


প্রতিবেদক-উজ্জ্বল রায়:>>>
পুলিশ  সদস্যদের অনিশ্চিত জীবন জাপন, কত দিন মাকে দেখিনা, ছোট্ট (বাবেল)টা কে না জানি কত বড় হয়েছে ৷ অনেক কষ্টে ৩ মাস পর ছুটি পেয়েছি ৭ দিনের ৷ কতৃপক্ষ ছাড়ি ছাড়ি বলেও ছাড়তে চায়না, তাদের কি দোষ, দেশের পরিস্থিতি ভালো থাকেনা, একটার পর একটা জামেলা লেগেই থাকে ৷ যাক, বেলা ১২ টা, পুলিশ লাইন থেকে ছুটির ছাড়পত্র নিয়েই সোজা বাস টারমিনালে বাড়ির বাসে ৷ তড়িঘড়ি করে বাসে উঠে একটু শান্ত হয়ে বসলাম ৷ নিজেকে কেমন জানি মুক্ত পাখির মত মনে হচ্ছে, অন্তত এই ৭ দিন, নাই কোন ডিউটি ,রোলকল, আর সব নিয়মের বেড়া জাল থেকে মুক্ত ৷
মা নিশ্চই বার বার বাড়ি ফিরার পথটায় চেয়ে আছে, আমার মত মা ও তো তার ছোট পাগলটাকে দেখেনা অনেক দিন ৷ অবশেষে বিকাল ৫ টায় বাড়ি, আমাকে দেখেই মায়ের মুখটায় হাঁসি ফুটেছে, পৃথিবীর সব কিছু দিলেও সেই হাঁসির সমতুল্য হবে না ৷ মায়ের সেই মুখটা দেখেই মনে হল, পৃথিবীর সবচেয়ে শান্তির আর নিরাপদ জায়গাটায় আমি চলে এসেছি ৷ মা তখন কাছে এসে মাথায় হাত দিয়ে জানতে চায় কেমন আছিস বাবা, রাস্তায় আসতে কোন সমস্যা হয়নি তো?  ছোট্র (বাবেল)টা এতক্ষনে বাবা এসেছে, বাবা এসেছে এক পালা স্লোগান শেষ করে, ফোকলা দাঁতে হেসে আমায় জড়িয়ে ধরে আছে ৷
বাবুকে কোলে নিয়ে ঘরে ঢুকতেই বউটার অভিমানী সুর, (বাবেল)তোর বাবার সাথে কথা বলবি না, বাড়ি থেকে যাবার পর তোর বাবার তো আর আমাদের কথা মনে থাকেনা ৷ হা হা হা,  আমি জানি, বউটাকে জড়িয়ে ধরে কপালটায় আলতো এক চুমুতেই ভুলে যাবে সব অভিমান ৷

বাবা, মা, এখন খুবই ব্যস্ত, দূরে থাকে কোথায় কি খায় না খায় তাই ছেলেকে মন ভরে খাওয়াবে ৷ বাবা তো না খেয়েই বসে আসে, কতদিন ছেলেটাকে পাশে বসিয়ে একসাথে খায় না ৷ খেতে বসেও মায়ের হাজারটা প্রশ্ন,  বাবা আগের চেয়ে শুকিয়ে গেছ কেন, মনে হয় ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করো না ৷
রাতে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেবার সভাব আমার, খাওয়া দাওয়া করে বাড়ি থেকে বেড় হতেই মায়ের সতর্কবানী, গ্রামের রাস্তাঘাট ভালো না, অন্ধকার, সাপ, পোকামাকড় এর ভয়, কোথাও যাইয়ো না বাবা ৷ সকাল ৮টা বন্ধুর ফোনে ঘুম ভাঙ্গলো, দোস্ত আজ পাশের গ্রামের সাথে একটা ক্রিকেট ম্যাচ আছে, চলে আয়, তোকে ছাড়া জমছে না ৷
তাড়াতাড়ি উঠেই ফ্রেস হয়ে বের হতেই মা বলছে, বাড়ি আসছো আর খেলার অর্ডার আসা শুরু করেছে তাই না?, এই রোদ্রের ভিতর খেলতে হবে না, তুমি বাবা যাইয়ো না ৷ তবুও চুপি চুপি বাড়ি থেকে বের হয়েই বো-দৌড়, আমাকে আর পায় কে ৷ যুদ্ধ জয়ের হাসি আমার মুখে মায়ের চোখ ফাঁকি দিতে পেরেছি তাই বিকেলে বাড়ি আসতেই (বাবেল)বায়না ধরেছে ঘোড়া চড়বে ,কি আর করা আমি হয়ে গেলাম বাবুর ঘোড়া ৷ কি যে  খুসি ওর হাঁসিটাই যেন ভুলিয়ে দেয় পৃথিবীর সব কিছু ৷ আর এ ভাবেই শান্তি, হাঁসি আর আনন্দের দিন গুলো শেষ হয়ে যায় ৷ দেখতে দেখতে আমারো ৭ দিন শেষ, কাল চলে যেতে হবে ৷ মায়ের মুখটা কেমন যেন ভারী ভারী লাগছে, বউটার ভিতর সেই চঞ্চলতা টুকু আর নেই তার হাঁসি মাখা মুখটাও আস্তে আস্তে মলিন হয়ে যাচ্ছে ৷ কিছু অজানা কষ্ট মনের মাঝে লুকিয়ে রেখে, ছেলেটাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে ,আমিও আমার অনিশ্চিত জীবনে ফিরে যাবার কথা ভাবছি৷
রাতে বউ আমার বুকে মাথা রেখে দুচোঁখের জলে সারা রাত ভাসিয়েছে আমার বুক, শত চেষ্টা করেও থামাতে পারিনি তার চোখের জল ৷ ফজরের আযানের আগে থেকেই মা ব্যাস্ত, ছেলে দূরের রাস্তায় যাবে, না খেয়ে গেলে কি হয় ৷ সূর্যটা উঠার আগেই উঠে তৈরি হলাম বেড়িয়ে পরার জন্য, মা খাবার রেডী করে ডাকছে, খেতে বসে দু-মুঠো ভাতও নামাতে পারলাম না গলা দিয়ে ৷ বিদায় বেলাটা মনে হয় এমনি হয় ৷
মায়ের চোখে জল টল টল করছে, আমি তাকাতে পারছি না মায়ের দিকে ৷ ছেলে আর বউটার কপালে আলতো এক চুমু দিয়ে ব্যাগটা কাধে নিয়ে  বেড়িয়ে পড়তেই, ছেলেটার গগন বিদায়ী কান্নায় ভেসে যাচ্ছে পুরো বাড়ি ৷ দোয়া পড়ে মা বুকে ফু দিয়ে দিলে, মাকে সালাম করে ,বের হবার সময় আড় চোখে দেখলাম,   মা বার বার আচঁল দিয়ে চোখ দুটু মুছছে , আর বউটা ছেলেকে কোলে নিয়ে ঘরের কোনে দাড়িয়ে চোখে জল নিয়ে নির্বাক দৃষ্টিতে শুধু তাকিয়ে আছে ৷
বাবাকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটছি, আর পিছনে ফেলে যাওয়া, বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট ম্যাচ, মায়ের সাপ, পোকামাকড়ের ভয় দেখানো, ছেলের ফোকলা দাঁতের ভূবন ভোলানো হাঁসি, আর বউটার অভিমানী ভালবাসার কথা মনে পড়ছে ৷ আমি পুলিশ, আমার পাথর বুকের ভিতরটা তবুও মোমের মত গলে যাচ্ছে, দু-চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে জল,  বা-হাতে বার বার মুছেও থামাতে পাচ্ছি না ৷ শুধু ইচ্ছে করছে, কাধের ব্যাগটা ছুরে ফেলে দিয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে বলতে, মাগো, আমি কোথাও যাব না মা ৷
 বাবা বাসে উঠিয়ে দিয়ে বললো সাবধানে যাইয়ো,  ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করো, শরীলের যত্ন নিও ৷ বাবা বাস  থেকে নেমে যাবার পর জানালা দিয়ে দেখলাম, বাবাও আমার মত চোখের জলটা মুছছে, আর অপলক চোখে তাকিয়ে আছে বাসটার দিকে ৷ বাস চলছে, আর আমি, আবার আস্তে আস্তে ফিরে যাচ্ছি আমার অনিশ্চিত জীবন 





একুশে মিডিয়া/এমএসএ

No comments:

Post a comment

নিউজের নীচে। বিজ্ঞাপনের জন্য খালী আছে

Pages