শিক্ষিত পাগল ‘গল্প’ পর্ব সমাপ্ত: নওমি - Ekushey Media bangla newspaper

Breaking News

Home Top Ad

এইখানেই আপনার বা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ: 01915-392400

নিউজের উপরে বিজ্ঞাপন

Friday, 3 January 2020

শিক্ষিত পাগল ‘গল্প’ পর্ব সমাপ্ত: নওমি



একুশে মিডিয়া, মুক্তকম রিপোর্ট:>>>
লেখিকা-কানিজ ফাতেমা নওমি:
পর্ব-৬ এবং শেষ পর্ব
দোয়েল যেন এই বাড়ির ই মেয়ে। সবসময়  রিতার সাথে হাতে হাতে সব কাজগুলো সামলে নিয়েছে। অপরদিকে দোলনের কোনো পাত্তা ই নেই। দোলন ও সারাদিন তার স্বামীর মতো রুমে বসে থাকে। তবে স্বামী স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসাটা ছিল না বললে ই চলে। সীমান্ত এখনো ঠিক মতো বুঝে উঠতে পারছে না। বউ মানে কি? 
সীমান্ত ভাবে বউ মানে শ্রদ্ধার বস্তু।  তার কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা।সে যা বলবে তাই শুনতে হবে। সীমান্ত সেটাই করে, যা দোলন করতে বলে। 
এভাবে কেটে যায় কয়েক মাস। 
-দোয়েল সব কিছু গুছিয়ে নিয়েছে নতুন করে। নিজের জীবনের হারিয়ে যাওয়া পড়াশোনাটা আবার শুরু করেছে। রিতা আর সুমন দুজনের নয়নের মনি এখন দোয়েল। ছেলেকে বিয়ে করানোর পর কেমন যেন বাবা -মায়ের থেকে অনেকটা দূরে সরে গেছে। এক বাড়িতে থাকলেই তো আর কাছে আসা যায় না। যদি কেউ মন থেকেই না মিশে। খাবার টেবিলে বসে আগের মতো আর একসাথে খাওয়া হয়ে উঠে না। রিতা বা সুমন কেউ অসুস্থ থাকলে সীমান্ত বা দোলন দুজনের একজন ও প্রয়োজন মনে করে না,সামনে এসে জিজ্ঞেস করার। কি হয়েছে তোমাদের?
দোলন বলে তার বোনকে প্রায়ই কটুকথা শুনায়। যখন দেখে খাবার টেবিলে কিছু তৈরি নেই। যা নয় তা বলে রাগ দেখায়। বড় বোন বলে তো মানে ই না। 
অপরদিকে, দোয়েল পড়াশোনার পাশাপাশি এই পুরো সংসারটাকে আগলে রেখেছে। কখন কার কি প্রয়োজন! সব খেয়াল দোয়েলের৷ 
মাঝে মাঝে রিতা হতাশ হয়ে সুমনকে বলে, আমাদের ছেলেটা আগে পাগল হলেও তো ভালো ছিলো তাইনা? 
আমি অসুস্থ শুনলে ও কেমন কষ্ট পেতো। 
সুমনঃ রিতা, আমাদের ছেলে এখন বড় হয়ে গেছে। ওর আর এখন আমাদের প্রয়োজন নেই। তবে কি জানো, ও পাগল নয় এখন আর!
রিতাঃ পাগল নয় মানে?  কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ কি কখনও এতোটা স্বার্থপর হতে পারে? তাও আবার নিজের বাবা-মায়ের সাথে? এতোটা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে? 
--আচ্ছা, পাগলদের কখনও কারো গোলামী করতে দেখেছো?
তোমার ছেলে তো গোলামী করে। (সুমন)
--কতো শখ করে দোলনকে ঘরের বউ করে আনলাম।  কতো মিষ্টি একটা মেয়ে ভেবেছিলাম। ওর পেটে পেটে এতো শয়তানি? অথচ, দোয়েলকে দেখো। এই মেয়েটা না থাকলে আমরা মনে হয় এতো দিনে মরেই যেতাম। দোলন আর দোয়েল আপন দুই বোন। আমার কোনো দিক থেকেই মনে হয় না। মেয়েটার মাঝে  যেমন মায়া আর তেমনি বুদ্ধিমতী।  আর দোলন তো একটা বেয়াদব। আমার সাথেও সেদিন বাজে বিহেভিয়ার করেছে।আমার ছেলের মাথাটা খাচ্ছে। ছি! কি করে পারে একটা মেয়ে হয়ে?
--রিতা, পরের মেয়েকে শুধু শুধু কেন দোষ দিচ্ছো। সীমান্ত কি একটুও বুঝে না? ও কয়েকদিন পর ডাক্তার হবে। ওর কি মন মানুষিকতা বলতে কিছু নেই? কোনটা ঠিক কোনটা ব্যা ঠিক।এটা তো ওর বোঝা উচিত।  আচ্ছা, ওরা হ্যাপি আছে তো? স্বামী স্ত্রী হিসেবে কতটা সুখী ওরা? 
যদি ওরা সুখী থাকে বাদ দেও না এসব চিন্তা! আমরা আর কয়দিন ই বাঁচবো? আমরাও কেমন স্বার্থপরের মতো চিন্তা করি। ছেলে বড় হয়েছে, বিয়ে করেছে। ছেড়ে দেও ওকে বউ এর হাতে। ওরা ভালো থাকলেই আমরা খুশি।  আমার চিন্তা দোয়েলকে নিয়ে।  আমরা ওকে ব্যবহার করতে চাই না। দোয়েলকে ভালো একটা ছেলে দেখে বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ওর বাবা খুব বিশ্বাস করে মেয়ে দুটো তুলে দিয়েছিলো আমার হাতে। একজন তার স্বামী নিয়ে ভালোই আছে। বাকি রইলো আরেকজন। ও যদি ভালো কাউকে নিয়ে সুখী হতে পারে, তাহলেই আমরা নিশ্চিতে চোখ বুঝবো। 
--না। এখনই না। আর দোয়েল পড়তে চায়। কেন নষ্ট করবে ওর স্বপ্নগুলো? (রিতা)
--আমি তো ওর মতের বাইরে গিয়ে কিছু করবো বলছি না।আচ্ছা, এটা না হয় পরেই ভাবা যাবে। 
১ বছর পর........
--আমি চাই না এই বাচ্চা!
--এমন কেন করছো? আজ পর্যন্ত কি তোমার অমতে আমি কিছু করেছি? তবুও কেন জানি, এজ আ ডক্টর হিসেবে আমার মনে হচ্ছে এই বেবিটা আব্ রোশন করা ঠিক হবে না। প্লিজ দোলন, আমি তোমাকে জীবনে প্রথম একটা রিকুয়েষ্ট করছি। আর আমাদের বেবিটা তো অবৈধ নয়। তাহলে কেন নষ্ট করতে হবে তোমার? আমরা তো স্বামী স্ত্রী তাই না? আর ভাবো তো এই কথাটা, আমার বাবা-মা শুনলে কতো খুশি হবে? (সীমান্ত) 
--(রাগে ফসফস করে) এই তুই কি ভাবিস রে? তোর মতো একটা গাধার বেবি আমি ক্যারি করবো? কখনও না। আমার তোকে ইউজ করতে মন চেয়েছে। তাই করেছি। তাই বলে বাচ্চা!  অসম্ভব। এই বাচ্চা আমি কিছুতেই রাখবো না। (দোলন)
--শান্ত হও, প্লিজ৷ আমি এই ব্যাপার নিয়ে পড়ে কথা বলছি। আমি এখন হসপিটালের যাই। বাই। 
পেছন থেকে শার্ট টেনে ধরে দোলন।
--এই জানোয়ার, কোথায় যাচ্ছিস। এখন পালাচ্ছিস কেন? আমি আসবো তোর হসপিটালে। তুই আগেই আব্ রোশনের সমস্ত ব্যবস্থা করে রাখবি।(দোলন)
--আমি একজন ডক্টর।  আমাকে সবাই চিনে। তুমি আমার বউ হয়ে বেবি নষ্ট করতে গেলে সবাইকে আমি কি জবাব দিবো? একবার তো ভাবো? 
--আমি  কিচ্ছু জানি না। তুই কিভাবে করবি তোর ব্যাপার। সেদিন রাতে এই কথাটা মনে ছিলো না৷ বারবার আমি তোরে সতর্ক করেছি। তুই বলেছিলি না কিছু হবে না। আমি তোকে কতবার বলবো, আমি তোকে ভালোবাসি না। আমি তোকে স্বামী মানী না। 
সীমান্ত বেরিয়ে গেলো। 
হ্যাঁ, এটাই ছিল ওদের সুখ। আজ প্রথম সীমান্ত চাচ্ছে বেবিটা পৃথিবীর আলো দেখুক। কিন্তু, না। বউ এর হাতে কাপুরুষ হওয়া ছেলেটার মেরুদণ্ড যে কবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তা কি কেউ জানতো৷ বিলুপ্ত হওয়া মেরুদণ্ড কি আর ফিরে পাওয়া যায়? চাইলেই হয়তো পাওয়া যেত। কিন্তু,  সে যে চায় নি। সেদিন রাতে সীমান্তর মস্তিষ্কে মানুষিকভাবে যে বিষয়টা সবচেয়ে বেশি আঘাত হানে। তা ছিল রীতিমতো গাঁ শিঁয়রে উঠার মতো ঘটনা। বাবার হাতে অনাগত সন্তানের খুন। হ্যাঁ, এটাই হয়েছে। সীমান্ত পাগল ছিল। ভিক্ষা করতে চেয়েছিল। কিন্তু, নিজের অনাগত সন্তানকে খুন করতে চায় নি। এই খুনে বাধ্য করেছে দোলন। হয়তো সীমান্তর মেরুদণ্ডটা থাকলে এতো বড় অনর্থক হতো না। সেদিন হসপিটালের যায় নি দোলন। সীমান্ত বাধ্য হয়েই আব্ রোশনের সকল প্রকার সামগ্রী বাড়িতে নিয়ে আসে। আর তা নিজেই করে।অনেক বুঝায় দোলনকে।কিন্তু, দোলন নাছোড়বান্দা।  জীবনে এই প্রথম ছিল, মন থেকে কান্না করতে করতে কাজটা সম্পন্ন করে। যখন বেবির  ছোট ছোট টুকরো গুলো কেটে বের করছিলো।  আহ! কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছিলো সীমান্তর। পাগল হোক আর অবুঝ হোক। বাবা তো! এই বেবিটা যদি পৃথিবীতে আসতো একদিন তো বাবা বলে ডেকে বুকে চলে আসতো? এর চেয়ে কষ্টের কিছু কি আর দ্বিতীয়টা হতে পারে?
সীমান্তর কানে যেন বারংবার কেউ বলে যাচ্ছে, বাবা আমি বাঁচতে চাই। আমাকে মেরো না। কি দোষ করেছি আমি বাবা! অনেক কেঁদেছিল সীমান্ত।  কিন্তু, হায় আফসোস! দোলনের এই ব্যাপার নিয়ে কোনো আক্ষেপই ছিল না। 
আচ্ছা, এমন ও তো হতে পারতো, এই বাচ্চাটা বাবার হাত দিয়েই পৃথিবীর আলো দেখতে পেতো? ওটা হতো সবচেয়ে সুখের অনুভূতি।  কারণ, বেবিটার বাবা একজন ডাক্তার।  
ডাক্তার আর পাগল বলে কি, সবচেয়ে কষ্টের অনুভূতিটাই পেতে হবে? পৃথিবীতে আসার আগেই ডাক্তার বাবার হাতে খুন হওয়া।
ওই ঘটনার পর পুরোপুরি পাগল হয়ে যায় নি সীমান্ত । তবে ভালো একটা জীবন সে পায়নি। সে রাতের  পর থেকে সীমান্ত কেমন যেন একটা হয়ে গেছে। এখন তো আরও অবস্থা খারাপ সীমান্তর। হসপিটালের মেডিসিন বিভাগ থেকে রুগিদের নাম করে মেডিসিন নিয়ে এসে নিজেই খেয়ে ফেলে। রুগি দেখা বাদ দিয়েই দিয়েছে বলা যায়। প্রতিদিন বাড়িতে একগাদা ঔষধ নিয়ে এসে নিজেই খেতে থাকে। এখন আর দোলনের কোনো কথা শুনে না। দোলন সীমান্তর প্রতি আরও বিরক্ত হয়ে গেছে। একদম ই সহ্য হয় না সীমান্তকে কিন্তু বাধ্য হয়েই থাকতে হচ্ছে। এখানে না থেকে কোথায়ই বা যাবে দোলন? নিজের বাড়িতে তো বৃদ্ধ বাবা ছাড়া আর কেউ নেই। 
ওদিকে সীমান্তর বাবা -মা নানারকম দুশ্চিন্তায় ভোগে সীমান্তকে নিয়ে। কিন্তু, সব টা তো তারা জানেও না। বাহ্যিক ভাবে যতটা দেখে ব্যস এটুকুই। বাবা-মা তো প্রকাশ না করলেও কিছুটা আঁচ করতে পারে। তাদের ছেলে ভালো নেই। দিন দিন আরও অন্ধকার জগতের দিকে চলে যাচ্ছে। কিন্তু,  তারা তার ছেলেকেই ভুল বুঝে।  তারা তো আর জানে না। তাদের ছেলে ও আট দশজনের মতো সংসারী হতে চেয়েছিলো। কিন্তু, এর পিছনে কে বা কার হাত আছে? তা কি কেউ বুঝতো?
দোলন এখন বেশ বুঝতে পারে। একটা ভুলে সবকিছু শেষ হতে চলেছে। তাই বলে, তার কোনো আক্ষেপ নেই। দোলন ও থাকতে চায় না সীমান্তর বউ হয়ে৷ 
কয়েক বছর পর।
-মা, আমি একজন আইনজীবী হবো। ব্যস আর কয়েকটা দিন পর। এখনই বিয়ের কথা বলো না। প্লিজ। এই সময়টুকু আমাকে দেও। 
- জানি মা। কিন্তু, ছেলেটা অনেক ভালো।অনেক ভালোবাসে তোকে। তুই একবার হ্যাঁ বলে দে৷ অন্তত, এনগেজডটা তো হয়ে যাক। 
-ঠিক আছে৷ যা ভালো মনে করো। 
. মা খুশি হয়ে সাথে সাথে ছেলের বাড়িতে ফোন দিয়ে আগামী শুক্রবার এনগেজমেন্ট এর ডেটটা ফাইনাল করে ফেলে। 
বাড়িতে একটা সাজসাজ রব।চারিদিকে  আলোর রশ্মি।  কারণ, আজ দোয়েলের এনগেজমেন্ট। একমাত্র মেয়ে বলে কথা। 
-হ্যাঁ দোয়েলের পরিচয় পাওয়া গেছে।যেদিন সীমান্তকে ঠকিয়ে ব্যাংক থেকে কয়েক লক্ষ টাকা আর লকারে রাখা রিতার গহনাগুলো নিয়ে অন্য একজনের সাথে পালিয়ে গিয়েছিলো দোলন। সেদিন এতোকিছু হারিয়ে ফেলার পর ও আশা ফিরে পায় রিতা আর সুমন। কারণ দোলনের বাবা বলেছিলো,তার মেয়ে বলতে শুধু দোলন ই ছিল। দোয়েলকে এক পাগলির কাছ থেকে নিয়ে এসে লালন-পালন করে৷ দোলন ছোট থেকেই বেশ হিংসুটে আর স্বার্থপর। অন্যদিকে দোয়েল সৎ সাহসী, মেধাবী আর সবার জন্য মঙ্গল কামনা করে।নিজের থেকেও বেশি অপরের কথা চিন্তা করে। 
তারপর সুমন আর রিতা তাদের  সন্দেহ থেকে, ডিএনএ পরিক্ষা করে সনাক্ত করে তাদের মেয়ে দোয়েলকে। 
তাই বলে সীমান্তকে দূরে ঠেলে দেয় নি। সীমান্ত নিজের করা ভুলগুলো বুঝতে পারে। দিনের পর দিন কিভাবে দোলন সীমান্তকে ঠকিয়ে গেছে। সব কিছু পরিবারের সাথে শেয়ার করে। 
রিতা ও সুমন কেউ এ  বিষয় নিয়ে সীমান্তকে ছোট করা বা কটুবাক্য করে নি। তারা সীমান্তকে ততটাই ভালোবাসতো যতটা আগেও বেসেছিলো। 
কিন্তু, সীমান্ত কিছুতেই নিজেকে ক্ষমা করতে পারছিলো না। তাই সে বাড়ি ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। বিগত কয়েক বছর অনেক খোঁজ করার পরেও সীমান্তর খবর আজও পাওয়া যায় নি। হাসপাতাল,  পাগলাগারদ, মর্গে সব জায়গা খুঁজেছে দোয়েল ও তার পরিবার।  দোয়েলের ও খুব কষ্ট হয়। চোখের সামনে নিজের ভাইকে দেখেও কখনো সেভাবে কথা বলা হয়ে উঠে নি। ছোট থেকেই বড্ড আফসোস করতো মেয়েটা। "আমার একটা ভাই যদি থাকতো।"
সীমান্ত মরে যায় নি। বেঁচে আছে। যে ছেলেটা ডাক্তারি পড়েছিল শুধুমাত্র মানুষকে সুস্থ করবে বলে। আজ সে জীর্ন পোশাক পড়ে কোনো এক রাস্তার পাশে ভিক্ষুক হয়ে ই বসে আছে। বাড়ি থেকে যেদিন বেড়িয়ে আসে, অনাকাংখিত কিছু ঘটে যাওয়া অতীত। তাকে আর ঘরমুখো করে নি। পাগল ছেলেটার ও তো মন বলে কিছু একটা ছিল,তাইনা?হয়তো সব পাগলামি গুলো বন্ধ হয়ে যেতো দোলনের একটু ভালোবাসা পেলে! হয়তো এক মূহুর্তের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ হিসেবে আবিষ্কার করতো নিজেকে যখন একটা ফুটফুটে নিষ্পাপ মুখ দেখতো। তার সন্তান যখন তাকে বাবা বলে ডাকতো, সে কি পাগল বেশে থাকতো?  না, কারণ বাবারা পাগল হয় না। বাবাদের অনেক দ্বায়িত্ব থাকে।সবচেয়ে বড় যে আঘাত টা ছিলো। সীমান্ত যেদিন এতো বছর পর এসে জানতে পারে । যাদেরকে বাবা-মা বলে জেনে এসেছে, তারা তার কেউ ই না। তার কোনো অস্তিত্ব ই নেই এই পরিবারে।  
কখনও কি ভেবেছিলো কেউ, পাগলির ছেলে পাগল ই হবে। এতো শিক্ষিত হওয়ার পরেও। ছোট বেলার বলা কথাগুলো, "আমি একদিন ভিক্ষা করবো।" সে তাই করবে। কিসের অভাব ছিল সীমান্তর?  তবুও কেন ভালোভাবে বাঁচতে পারলো না? তার এই জীবনের জন্য কে দায়ী?  সুমন রিতা? দোলন? নাকি সে নিজেই? না সে পাগলির ছেলে বলে পাগল ই হতে হবে?
ওই যে রাস্তার ধারে বসে থাকা  পাগলগুলো জীর্ন শীর্ণ ভাবে জীবন কাটায়।তারা কি পাগল হয়েই জন্ম নেয়? 
-না। তাদের ও কারো না কারো একটা সুন্দর জীবন ছিল। তারাও একটা সময় চেয়েছিলো সবার মতো করে বাঁচতে।  একটা সুন্দর জীবন কে না চায়? খোঁজ নিলে দেখা যাবে, ওই যে স্টেশনে বসে থাকা পাগলটা। সে ও খুব শিক্ষিত ছিল। সে হয়তো সীমান্তর মতো ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বা খুব পড়াশোনা জানা কেউ ই ছিল। তাহলে, কেন তার পাগল পরিচয়টা ই নিতে হলো? পেছনের কারণ টা কি কেউ জানতো? 
ভালো থাকুক পাগল গুলো। আমরা তাদেরকে তাচ্ছিল্য  করা থেকে বিরত থাকি। বেলা শেষে তারাও তো রক্তে মাংসে গড়া আমাদের মতোই মানুষ। 


..........সমাপ্ত...........




একুশে মিডিয়া/এমএসএ

1 comment:

নিউজের নীচে। বিজ্ঞাপনের জন্য খালী আছে

Pages