গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে চট্টগ্রামে দুটি পূরনো কূপ খনন করবে সরকার - Ekushey Media bangla newspaper

Breaking News

Home Top Ad

এইখানেই আপনার বা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ: 01915-392400

নিউজের উপরে বিজ্ঞাপন

Sunday, 5 January 2020

গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে চট্টগ্রামে দুটি পূরনো কূপ খনন করবে সরকার


মোঃ জিপন উদ্দিন, চট্টগ্রাম:>>>
অতীতে যেসব জায়গায় কূপ খনন করে আশানুরূপ গ্যাস মেলেনি, সেসব জায়গার কূপগুলো আবার খনন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিদেশ থেকে বেশি দাম দিয়ে এলএনজি আমদানি করার চাপ কমাতে দেশের ভেতরে গ্যাসের অনুসন্ধান বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালানোর এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
বর্তমানে দেশে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে মোট ৩৪টি কূপ ড্রাই এবং পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। এছাড়া নানা জটিলতায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে— এমন কূপ আছে আরও ১৮টি। এগুলোর মধ্যে ১১টি কূপ আবার যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এই ১১টি কূপের মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলে রয়েছে দুটি কূপ— সেমুতাং-১ এবং হালদা-২।
অন্য নয়টি কূপ হচ্ছে কসবা-১, মোবারকপুর-১, শ্রিকাইল-১, রূপগঞ্জ-১, সুন্দলপুর-১, সালদানদী-১, সালদানদী-২, মুলাদি-১ এবং মুলাদি-২। ১৯৯৮ সালে হালদা-১ এ চার হাজার ৫১৯ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়। অন্যদিকে ২০১৮ সালে সেমুতাং-১ কূপে ৩ হাজার ২০ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়। খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্রে অনেক কম্পার্টমেন্ট আছে। একটি কম্পার্টমেন্ট থেকে গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। অন্য কম্পার্টমেন্টগুলো জটিল। তাই বাপেক্স আর গ্যাস তুলতে পারেনি।
বাপেক্সের অভিজ্ঞতাও নেই। সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্রের কুপটি ছিল পরিত্যক্ত, ষাটের দশকে মানিকছড়িতে সেমুতাং গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কৃত হওয়ার পর তখনকার পাকিস্তান অয়েল এন্ড গ্যাস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি চারটি কূপ খনন করে। পরে সেগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর কেয়ার্নস পঞ্চম কূপটি খনন করে। কিন্তু গ্যাস উত্তোলন লাভজনক হবে না বিবেচনায় তারাও কাজ বন্ধ করে চলে যায়।
২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি রাশিয়ান কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠান কেএন ৬ নম্বর কূপ খনন শুরু করে। ওই বছরের ১২ মার্চ ওই কূপ থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলনও শুরু হয়। কিন্তু কূপ থেকে নির্গত তেল ও গ্যাস পরিশোধিত পানির দূষণ হালদা নদীতে ছড়াতে থাকলে ডিসেম্বরে গ্যাস উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া হয়। ধারণা করা হয়ে থাকে, এই কুপে মোট গ্যাস রিজার্ভের পরিমাণ ১৫০ বিলিয়ন ঘনফুট, প্রতিদিন ২-৩ কোটি ঘনফুট হারে এই গ্যাস প্রায় ১৫ বছর পর্যন্ত তোলা সম্ভব। তবে কূপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো কূপ মুলাদিতে।
১৯৭৬ সালে মুলাদী-১ কূপটিতে ৪ হাজার ৭৩২ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়। একইভাবে ১৯৮১ সালে মুলাদি-২ কূপটি খনন করা হয়। কূপটির ৪ হাজার ৫৫৬ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়। একইভাবে ১৯৯৬ সালে সালদানদী-১ কূপে ২ হাজার ৮৩৯ মিটার, ১৯৯৯ সালে সালদানদী-২ কূপে ২ হাজার ৪৫৮ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়। ২০০৪ সালে শ্রীকাইল-১ কূপটির ৩ হাজার ৫৮৩ মিটার পর্যন্ত, ২০১১ সালে সুন্দলপুর-১ এর ৩ হাজার ৩২৭ মিটার পর্যন্ত, ২০১৪ সালে রূপগঞ্জ-১ এর ৩ হাজার ৬১৫ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়। অন্য দিকে ২০১৬ সালে মোবারকপুর-১ কূপটিতে ৪ হাজার ৬২৪ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়। একইভাবে এবং একই বছর কসবা-১ এর কূপটিতে ২ হাজার ৫৫৭ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়। কসবার কূপটি খননের পর গ্যাস পাওয়া গিয়েছিল। তবে সেটি থেকে মাত্র ৩ মিলিয়ন ঘনফুট করে গ্যাস ওঠে, এরপর আর ওঠেনি। ফলে এটি পাইপলাইন করে গ্রিডে দেওয়া বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হবে না বলেই সিদ্ধান্ত নেয় বাপেক্স।
তবে বাপেক্সের মতে, কূপটি রিভিউ করে অন্য কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে বাপেক্সের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে সুন্দলপুরেরও টাইট স্যান্ড, মোবারকপুরের কূপের মুখে আগুন দিয়ে গ্যাসের চাপ পরীক্ষা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রেসার (চাপ) কম থাকায় কূপ থেকে গ্যাস তোলা বন্ধ রাখা হয়। শ্রীকাইলেও টাইট স্যান্ড আবার কূপ খননের সময় পানি উঠে আসায় গ্যাস উত্তোলনে যেতে পারেনি বাপেক্স। রূপগঞ্জে প্রথম দিকে গ্যাস উঠলেও পরে প্রেসার কমে যায়। এখনও সেখানে গ্যাস আছে।
টাইট স্যান্ড থাকার কারণে কাজ করা যাচ্ছে না। মুলাদির দুটি কূপ অনেক আগের। প্রথমদিকে গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছিল। কিন্তু পরে আর তোলা যায়নি। এগুলোতে এখন যৌথ ব্যবস্থায় পুনর্খননের পরিকল্পনা করছে বাপেক্স।



একুশে মিডিয়া/এমএসএ

No comments:

Post a comment

নিউজের নীচে। বিজ্ঞাপনের জন্য খালী আছে

Pages