অবশেষে পরিচয় মিললো লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেই অন্তঃসত্ত্বা নারীর - Ekushey Media bangla newspaper

Breaking News

Home Top Ad

এইখানেই আপনার বা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ: 01915-392400

নিউজের উপরে বিজ্ঞাপন

Wednesday, 29 January 2020

অবশেষে পরিচয় মিললো লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেই অন্তঃসত্ত্বা নারীর


রেখা মনি, রংপুর:>>>
দীর্ঘ চার মাস ধরে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেই অন্তঃসত্ত্বা নারী রমিতা বেগমের খোঁজে হাসপাতালে এসেছেন তার স্বামী সুরুজ আলী বাদশা।মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দিনগত রাতে স্ত্রী রমিতার খোঁজে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে আসেন তিনি। রমিতা বেগম বগুড়ার শেরপুর উপজেলার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির বাংড়া এলাকার সুরুজ আলী বাদশার স্ত্রী। তিনি একই জেলার ধুনট উপজেলার সুরক গ্রামের মৃত অফের প্রামাণিকের মেয়ে। ৫/৬ মাস আগে বাসে করে টাঙ্গাইল থেকে শেরপুর যাওয়ার সময় ভুলে লালমনিরহাট চলে আসেন রমিতা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ চার মাস আগে সন্ধ্যায় লালমনিরহাট হাসপাতালের ভেতরের গেটের সামনে পলিথিন বিছিয়ে তার ওপর শুয়ে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন সিনিয়র স্টাফ নার্স চামেলী বেগম। পরে কয়েকদিন চিকিৎসার পরে নিরুদ্দেশ হলেও পুনরায় সদর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি হলে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হয়েছেন ওই নারী ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। হাসপাতালে কর্মরত নার্স ও চিকিৎসকরা অনেকভাবে তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি জিডিও করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে গত ২৬ জানুয়ারি সকালে ‘হাসপাতালে ৪ মাস ধরে ভর্তি অন্তঃসত্ত্বা কে এই নারী’ শিরোনামে রংপুর২৪ ডটকম এ একটি সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর দেশের প্রায় সব গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশিত হয় এ খবর। ফলে তার গ্রামের লোকজনের দৃষ্টিগোচর হলে স্ত্রীর খোঁজে মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ছুটে আসেন তার স্বামী সুরুজ আলী বাদশা। স্বামী ও একমাত্র সন্তান রতন মিয়াকে (২) কাছে পেয়ে বেজায় খুশি রমিতা বেগম।রমিতার স্বামী সুরুজ আলী বাদশা  জানান, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বাবা মা হারা রমিতা বেগমকে বিয়ে করেন ৪ বছর আগে। কাজের সন্ধানে স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে টাঙ্গাইলে বসবাস করতেন তিনি। দীর্ঘ ৫/৬ মাস আগে খালার বাড়ি শেরপুরের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে ভুলে বাসে করে লালমনিরহাট চলে এসে নিখোঁজ হন দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা রমিতা। রংপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হন তিনি। অর্ধশিক্ষিত সুরুজ আলী স্ত্রীর নিখোঁজের জন্য টাঙ্গাইল থানায় জিডি করতে যান কিন্তু রমিতার ছবি না থাকায় জিডি নেয়নি পুলিশ। অবশেষে স্ত্রীর আশা ছেড়ে দিয়ে সন্তানকে নিয়ে নিদারুন কষ্টে জীবন যাপন শুরু করেন। অবশেষে স্থানীয়দের মাধ্যমে অনলাইনে স্ত্রীর ছবিসহ সংবাদ দেখে সন্তান রতনকে নিয়ে ছুটে আসেন হাসপাতালে। স্ত্রীকে পেয়ে আনন্দিত সুরুজ আলী বাদশা।
সুরুজ আলী বাদশা বলেন, ছোটবেলায় বাবা মাকে হারিয়ে দাদা জিল্লুর রহমানের কাছে বড় হন রমিতা। তার বাবার রেখে যাওয়া প্রায় ৩ একর জমির মালিক হতে চাচারা নির্যাতন করে তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ করে তোলেন। পায়ে শিকল বেঁধে রাখেন চাচারা। বিয়ের পরেও স্বামী-স্ত্রী দুজনেই রমিতার চাচা আবুল কালামের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ফলশ্রুতিতে জীবন বাঁচাতে স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে টাঙ্গাইলে বসবাস শুরু করেন বলেও জানান সুরুজ আলী বাদশা।
দীর্ঘ ৬ মাস পরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রমিতাকে খুঁজে পেয়ে বাংলানিউজসহ সব গণমাধ্যমকর্মী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সুরুজ আলী। স্বামীকে কাছে পেয়ে বিড়বিড় করে নিজের ঠিকানা বলতে শুরু করেন রমিতা। একমাত্র সন্তানকে কোলে নিয়ে পরম যত্ন শুরু করেন। রমিতাও দাবি করেন সুরুজ আলী বাদশা তার স্বামী ও রতন মিয়া তার একমাত্র সন্তান। এখন স্বামীর সঙ্গে চলে যেতে বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে রমিতা। কিন্তু সদর থানায় জিডি থাকায় পুলিশের কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে ছাড়পত্র দিয়ে স্বামী সন্তানের সঙ্গে পাঠাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।হাসপাতালে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি রমিতা বেগমকে আর্থিকভাবে ওষুধ ক্রয়সহ অন্য সহায়তা করছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। সদর হাসপাতালের সমাজসেবা অফিসার এরশাদ আলী বাংলানিউজ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অজ্ঞাত রমিতার পরিচয় শনাক্তের জন্য মানবিকতার পরিচয় দিয়ে সর্বপ্রথম বাংলানিউজ সচিত্র সংবাদ প্রকাশ করে। এরপর অনেক গণমাধ্যমে বেশ ফলাও করে প্রচার করায় রমিতার পরিচয় শনাক্ত করা এবং তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। রমিতাকে একটি নতুন পোশাক ও যাতায়াতের খরচ বহন করবে সমাজসেবা অধিদফতর। লালমনিরহাট সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম বলেন, রমিতা বেগম ও তার স্বামীর পুরো ঠিকানার সঠিকতা যাচাইসহ জিডি মূলে কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বামীর কাছে রমিতাকে হস্তান্তর করা হবে।





একুশে মিডিয়া/এমএসএ

No comments:

Post a comment

নিউজের নীচে। বিজ্ঞাপনের জন্য খালী আছে

Pages