মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিএমইউ এর চেয়ারম্যান এর খোলা চিঠি - Ekushey Media bangla newspaper

Breaking News

Home Top Ad

এইখানেই আপনার বা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ: 01915-392400

নিউজের উপরে বিজ্ঞাপন

Saturday, 2 May 2020

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিএমইউ এর চেয়ারম্যান এর খোলা চিঠি

রেখা মনি:

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আসসালামু আলাইকুম, আপনার সার্বিক সুস্থতা কামনা করে শুরু করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীরা কি সমাজ এবং রাষ্ট্রে সত্যি মূল্যহীন অপ্রয়োজনীয়! করোনা ইসুতে বিভিন্ন সেক্টরের ক্ষেত্রে আপনার পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে সুন্দর সুচিন্তিত প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। কিন্তু গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো প্রণোদনার ঘোষণা আসেনি। কলমই জীবন জয়ের একমাত্র সম্বল যাদের। স্বপ্নবান যে মানুষগুলো সকল রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে প্রতিনিয়ত সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জমে থাকা অনিয়মের অন্ধকার, নানাবিধ বৈষম্যের ক্ষতগুলো চিহ্নিত করেন। জীবন বাজী রেখে নানান ধরণের অপরাধীদের গভীর গোপনে করা অপরাধমূলক কার্যক্রম দিনের আলোয় নিয়ে আসেন। শত ঝড়বৃষ্টি বজ্রপাত মাথায় করে দেশ-দেশান্তরের অসংখ্য সুসংবাদ দুঃসংবাদ হাসি-আনন্দ সম্ভাবনার খবর মানুষের কাছে পৌঁছে দেন, তারাই গণমাধ্যমকর্মী, 
যদিও তাদের নাম শুনলে গায়ে কাঁটা দেয় কারো কারো। এটা আজীবনের, নতুন কিছু নয়। 
সাংবাদিকদের প্রতি সমাজ এবং রাষ্ট্রের কারো কারো বিদ্বেষ থাকতেই পারে, থাকাটা স্বাভাবিক। কারণ, সাংবাদিকের কাজই হচ্ছে সমাজ ও রাষ্ট্রের নানান অসংগতি, অনিয়ম-অসুস্থতাগুলো সমাজ এবং রাষ্ট্রের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া। এতে সুবিধা ভোগীদের একটু অসুবিধায় পড়ে হয়। তাই তাদের কাছে সাংবাদিক মানে এক ধরনের আতংক। এই আতংকের জ্বরে সব শ্রেণী-পেশার মানুষই কম বেশি ভোগেন! কেউ হয়তো অপরাধ করে ভোগেন আর কেউ না করে। তবে কোনো কোনো সাংবাদিকও নিজেদের পেশার পবিত্রতা নষ্ট করেন। বিবেক বিবেচনার মুখে থুথু ছিটিয়ে অর্থের লোভে স্বার্থের পায়ে মাথা ঠোকেন। সাংবাদিকতার পরিভাষায় যাকে বলা হয় হলুদ সাংবাদিকতা। অবশ্য হলুদ সাংবাদিক বলতে যাদের বোঝানো হয়, তারা সংখ্যায় খুবই নগণ্য। তাদের কথা নাইবা বললাম। আমার অবস্থান সবুজ সাংবাদিকতার পক্ষে। সবুজ বলতে আমি বুঝি শুভ বিশ্বাস, সৎ সাহস, সত্য ও সুন্দরের সাধনা। যারা একটি সুন্দর সুখী সমৃদ্ধ শান্তিময় দেশ ও মানুষের মঙ্গলের কথা ভেবে কলম ধরেন, তারা কি অন্য গ্রহের কেউ? তারা কি মানুষ কিংবা দেশের নাগরিক নয়?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখুন একবার, সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের শত্রু নয়, অকৃত্রিম বন্ধু! সাংবাদিকরা আছে বলে আপনি অজস্র চোখে দেখেন। অসংখ্য কানে শ্রবণ করেন। বাংলাদেশর মাটিতে একটি ধুলিকণা নড়ে উঠলেও আপনি বুঝতে পারেন। সাংবাদিকরা আছে বলেই আপনি বেডরুম কিংবা ড্রয়িংরুমে বসে দেখতে পারেন কোথায় কে কিভাবে দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, কে কি বলছে! সাংবাদিকরা আছে বলেই আপনি বুঝতে পারেন কোথায় কখন কোন কাজটা করা প্রয়োজন, কোনটি নয়। সাংবাদিকরা আছে বলেই আপনি সত্যর সাদা আর মিথ্যার কালোটাকে আলাদা করতে পারেন। নয়তো আপনার চারপাশে যারা আপনাকে ঘিরে থাকে তারা আপনাকে শুধু ঘুম পাড়িয়ে রাখতেই চেষ্টা করতো ক্রমাগত।
কারণ, আপনি ঘুমিয়ে থাকলেই তাদের সুবিধা আপনি জেগে থাকলে সুবিধাবাদীদের কত প্রকারের অসুবিধা সেটা আপনিও ভালো জানেন। যতক্ষণ সুযোগ সুবিধা দিতে পারবেন ততক্ষণই চারপাশ ঘিরে থাকবে।
কিন্তু সাংবাদিকরা সুবিধাবাদি নয়। টলমল কচু পাতর জল নয়, কিংবা সু-সময়ের অতিথি পাখি নয়, সময় ফুরাইলেই উড়ে যাবে। সাংবাদিক মানে, সময় সমাজ ও রাষ্ট্রের একনিষ্ঠ পাহারাদার। যারা শত সহস্র বিড়ম্বনার মধ্যেও ক্লান্তির ভারে নূয়ে পড়ে না, ঘুমিয়ে পড়ে না। নিঃস্বার্থভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে পঞ্চইন্দ্রিয় খুলে জেগে থাকে। তাই সাংবাদিকদের ভুল না বুঝে বন্ধু ভাবুন।
বর্তমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্য সব সেক্টরের মত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের পাশে থাকুন। নিশ্চয়ই আপনি অবগত আছেন, ইতিমধ্যে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক গণমাধ্যম কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন। এইসব বীর যোদ্ধাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ান। রাষ্ট্রের অবিভাবক হিসেবে আপনার আন্তরিকতাই সবাইকে পথ চলতে প্রণোদনা যোগাবে।

লেখক:
মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান শ্রাবণ
প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি
বাংলাদেশ মাল্টিমিডিয়া ইউনিটি (বিএমইউ)

একুশে মিডিয়া/এমএসএ

No comments:

Post a Comment

নিউজের নীচে। বিজ্ঞাপনের জন্য খালী আছে

Pages