দোয়ারাবাজার-লক্ষীপুর সড়ক জুড়ে কাদায় ভরা : জনদুর্ভোগ চরমে - Ekushey Media bangla newspaper

Breaking News

Home Top Ad

এইখানেই আপনার বা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ: 01915-392400

নিউজের উপরে বিজ্ঞাপন

Wednesday, 2 September 2020

দোয়ারাবাজার-লক্ষীপুর সড়ক জুড়ে কাদায় ভরা : জনদুর্ভোগ চরমে

একুশে মিডিয়া, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: 
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের সাথে বৃহত্তর লক্ষীপুর ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র সড়কটি মেরামতের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উপজেলা সদর থেকে সুরমা ইউনিয়ন হয়ে সড়কটি লক্ষীপুর ইউনিয়নে শেষ হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে উপজেলা সদর ছাড়াও জেলা এবং বিভাগীয় শহরের সাথে সুরমা, লক্ষীপুর,  বোগলা ও বাংলাবাজার এই চার ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের নিয়মিত যাতায়াত হয়ে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে মেরামতের অভাবে এবং সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কয়েক দফা বন্যায় সাড়ে তিন কিলোমিটারের পুরো সড়কটিই এখন পথচারীদের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির সুরমা ইউনিয়নের শান্তিপুর-খৈয়াজুরি ব্রীজের উত্তর প্রান্ত থেকে শুরু করে লক্ষীপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত পুরো অংশ কাঁদায় ভরপুর। বেশিরভাগ জায়গার পিচ ঢালাই অন্যত্র সরে যাওয়ায় বৃষ্টিতে কাদার সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো অংশে রড, ইট-পাথর বিপদজনক ভাবে বের হয়ে আছে। যেকোনো সময় গাড়ির চাকায় লেগে বড় ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত দূর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এই সড়কপথটি এখন যানবাহন চলাচলের অনুপোযোগী হওয়া স্বত্ত্বেও বিকল্প রাস্তা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনসহ চলাচল করতে দেখা গেছে অনেককে। পথচারীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, প্রতিদিনই বিভিন্ন কাজে উপজেলা সদর ও সদরের বাইরে যেতে বিপদজনক এই সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এমনিতেই বিপদজনক সড়ক কিন্তু সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই আরো ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ পর্যন্ত অনেকেই এই সড়কে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন। চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষদের সবসময় এই সড়কে যাতায়াত করতে হয়। যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়তই চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। অসুস্থ, গর্ভবতী মহিলা ও প্রবীণরা এই সড়কের নাম শুনলেই ভয় পান বলে জানিয়েছেন পথচারীরা। 
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এনামুল কবির মুন্না জানান, সুষ্ঠু তদারকির অভাবে এই সড়কের উন্নয়ন প্রকল্প কোনো সময়েই সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়না। ঠিকাদাররা প্রতিবছর দায়সারা ভাবে কাজ করে লুটপাট করে নিজেদের পকেট ভর্তি করেন। সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে জনগণের ভোগান্তি হলেও এতে  ঠিকাদারদের লাভ। নতুন করে ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক মেরামতের বরাদ্দ আসলে তারা আবারও নতুন করে লুটপাট করার সুযোগ পায়। যাত্রীবাহী মোটরসাইকেল চালক ইসলাম উদ্দিন জানান, বাইরের এলাকার গাড়ি চালকরা এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চালাতে সাহস করেনা। আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। প্রতিদিন যে কতটা ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয় তা এই সড়ক দিয়ে কেউ একবার আসা যাওয়া না করলে বুঝানো যাবেনা। অনেক সময় যাত্রীদেরকে একটু দূরত্ব পরপর নামিয়ে দেওয়া হয়। দু একদিন পরপর গাড়ি মেরামত করতে নয়। সড়কটি দ্রুত মেরামত না করা হলে যেকোনো সময় প্রানহানীর মতো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। 

দোয়ারাবাজার উপজেলা সদর থেকে লক্ষীপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি জনস্বার্থে অবিলম্বে মেরামত করে চলাচল উপযোগী করা হোক এমনটাই দাবি বৃহত্তর লক্ষীপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনসাধারণের। 

লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল হক জানান, এই সড়ক দিয়ে আমরা সবাই যাতায়াত করে থাকি। সড়কটি অনেকটাই  চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক এই সড়ক মেরামতের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন প্রশাসনের সাথে অনেক আগেই যোগাযোগ করে দ্রুত সড়ক মেরামতের তাগিদ দিয়েছেন। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতির কারণে এই সড়কসহ উপজেলার অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এখন পিছিয়ে পড়েছে। এই সড়কের জন্য অনেকেই না জেনে ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার-চেয়ারম্যানদের দোষারোপ করে থাকে। কিন্তু সড়ক উন্নয়নের কাজ স্থানীয় সরকারের অধীনে নয় এটা সম্পূর্ণ এলজিইডির অধীনে। সড়কের উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, তদারকি সরাস‌রি এলজিইডি কর্তৃপক্ষ করে থাকে। সুরমা ইউনিয়নের মহব্বতপুর থেকে শরীফপুর পর্যন্ত টেন্ডারের প্রক্রিয়াধীন আছে। এছাড়া লক্ষীপুর ইউনিয়নের লেয়াকতগঞ্জ (পশ্চিম বাংলাবাজার) থেকে চকবাজার পর্যন্ত শিঘ্রই টেন্ডার হবে আশাবাদী।  
এ ব্যাপারে এলজিইডির দোয়ারাবাজার উপজেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর মোবাইল নাম্বারে কল দিলে তার নাম্বার বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে এলজিইডির দোয়ারাবাজার উপজেলার সার্ভেয়ার সাবিরুল ইসলাম প্রতিবেদককে জানান, দোয়ারাবাজার থেকে লক্ষীপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটারের বেহাল সড়কটির রিপোর্ট ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত এব্যাপারে কোনো ধরনের নির্দেশনা আসেনি।
 
 
 
 
একুশে মিডিয়া/এমএসএ

No comments:

Post a comment

নিউজের নীচে। বিজ্ঞাপনের জন্য খালী আছে

Pages