![]() |
এম.ডি হাফিজুর রহমান, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
"শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গত ০১ জানুয়ারি ২০১৯ইং তারিখে বাংলাদেশ সরকারের বিনামূল্যে বিতরনের জন্য দেয়া বই নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে গয়হাট্টা সালেহা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে।
সরকারি বই বিনামূল্যে বিতরনের কথা থাকলেও সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার গয়হাট্টা সালেহা ইসহাক উচ্চ বিদ্যালয়ে টাকা ছাড়া বই মেলেনি। একাধিক সূত্র থেকে জানা যায় যে, অত্র স্কুলের সরকারি বই নিতে অফিসকে টাকা না দিলে বই পাওয়া অসম্ভব হচ্ছে জানায় এলাকাবাসী। প্রত্যেক ছাত্র/ছাত্রীর কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত নেয়ে হয়েছে বলে জানিয়েছে ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী সহ এলাকাবাসী৷
৭নং পূণিমাগাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলামিন সরকার বলেন- আমার বাপ-দাদার সম্পত্তির উপর ওই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত। ওই বিদ্যালয়ের সাথে আমার ছোটবেলার অনেক সৃতি জড়িত আছে। ওই বিদ্যালয়ে আমি গত ০১ জানুয়ারি ২০১৯ইং তারিখে বই বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্ধোধন করি। কিন্তু যখন শুনতে পারলাম টাকা ছাড়া বই দেওয়া হচ্ছে না। তখন আমি খুবই মর্মাহত হই। আমি নিজে খুবই দরিদ্র ২ জনকে বই দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জোর গলায় বলেন টাকা ছাড়া বই মিলবে না। তিনি আরও বলেনন, আপনি কে? যে আপনি বই দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেন?
গয়হাট্টা সালেহা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রের অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন- আমার ছেলে বিনা টাকায় বই আনতে গেলে প্রধান শিক্ষক সরাসরি বলে দেয়, টাকা ছাড়া বই মিলবে না। পরে আমি অনেক কষ্টেসৃষ্টে ৩০০ (তিনশত) টাকা দিয়ে ছেলেকে পাঠিয়ে দিলেই বই দেয়া হয়।
আরও একজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন- প্রধান শিক্ষক টাকা ছাড়া বই দিচ্ছে না। এমনকি প্রধান শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সাথে হাত মিলিয়ে অনেক দূর্নিতি করছে প্রতিষ্ঠানে। তিনি আরও বলেন দুর্বল শিক্ষার্থীদের ভয় দেখিয়ে কোচিং করার জন্য চাপ প্রদান করা হয়। কোচিং করলে তাদের পরিক্ষায় উত্তীর্ন করে দেওয়ার প্রলোভনে।
এক মাদ্রসার অভিভাবক সদস্য অভিযোগ করেন, আমার নিজের ভাগ্নের জন্য বই আনতে গেলে প্রধান শিক্ষক বলেন টাকা ছাড়া বই দেওয়া যাবে না। সবার জন্য সমান নিয়ম ৩০০ টাকা জমা দিয়ে বই নিয়ে যেতে হবে।
ওই বিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিইচ্ছুক এক ছাত্র বলে- আমি অষ্টম শ্রেনী হইতে সকল বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়ে নবম শ্রেণীতে উঠেছি। কিন্তু আমি বিদ্যালয়ে বই আনতে গেলে আমাকেও টাকা ছাড়া বই দেওয়া হয় না । পরে আমি ৩০০ টাকা জমা দিয়ে বই নিয়ে আসি।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা মধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন- বই বাবদ যদি কোন টাকা নিয়ে থাকে তাহলে, আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো। কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের সাথে কথা বলতে চাইলে সে বিষয় টি নিয়ে কথা বলতে রাজি না বলে লাইন কেটে দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন।
ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পান্না বলেন- এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা। অন্যান্য বিদ্যালয়ে ৫০০/৬০০ টাকা করে নিচ্ছে কিন্তু আমরা শুধু সেশন ফি বাবদ ৩০০ টাকা করে নিচ্ছি । বেলা ১২ টার সময় বিদ্যালয় বন্ধ কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে এখনো ক্লাস শুরু হয়নি তাই হয়তো বন্ধ ছিল। কিন্তু এ বিষয়ে আমি তাদের বলে দিয়েছি বিদ্যালয় যেন সঠিক সময়ের আগে বন্ধ না হয়।
উপজেলার সচেতন নাগরিক সহ ভুক্তভোগী অভিভাবকরা গয়হাট্রা সালেহা ইসহাক উচ্চ বিদ্যালয়ে বই নিয়ে গড়ে উঠা ঘটনার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানান।
একুশে মিডিয়া/এমএ




No comments:
Post a Comment