দোহারে পদ্মায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন।। একুশে মিডিয়া - একুশে মিডিয়া একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যম হিসেবে সংবাদ পরিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

ক্লিক করুন

Breaking News

Home Top Ad

নিউজের উপরে বিজ্ঞাপন

Saturday, 26 January 2019

দোহারে পদ্মায় ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন।। একুশে মিডিয়া


মোঃ জাকির হোসেন, দোহার (নবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:
ঢাকার দোহার উপজেলার মুকসুদপুর থেকে নয়াবাড়ী পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে স্থানীয় প্রভাবশালী বালু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা।
মাসখানেক আগে দোহার ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে আওয়ামীলীগের এক নেতাকে একলক্ষ টাকা অর্থদন্ড দেওয়ার পরও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কোন রকম সরকারি অনুমতির তোয়াক্কা না করেই নদীর তীরবর্তী এলাকায় শ্যালো মেশিন,বালু কাটার মেশিন ও ড্রেজিং বসিয়ে নদীর বুকচিরে বালু উত্তোলন করছে এই সিন্ডিকেট বালুখেঁকোরা।
উপজেলার নয়াবাড়ীর ধোয়াইর দেওয়ান বাড়ীর মোড়,কুসুমহাটির চরপুরুলিয়া,কর্তিকপুর-মাহমুদপুরের মৈনট,নারিশা,মুকসেদপুর,বিলাশপুরসহ ১০/১২টি পয়েন্টে প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীরা পদ্মা নদীর তীর এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে দিনে-রাতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তুলছে। এইবালু আবার ঘাট এলাকায় বালুর পাহাড় স্তুপ করে প্রতিদিন শতাধিক অবৈধ ট্রাকের মাধ্যমে ১৫০০ টাকা থেকে ১৭০০ টাকা দরে চড়া মূল্যে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।ফলে নদী তীরবর্তী জনবসতির এলাকাসহ কৃষি ও আবাদি জমি ভাঙনের আশংকায় ভীত হয়ে পড়েছে স্থানীয় নদীতীরবর্তী এলাকাবাসী।অপরদিকে বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে প্রশাসন অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নয়াবাড়ীর ধোয়াইর দেওয়ান বাড়ীর মোড়, কুসুমহাটির চরপুরুলিয়া, কর্তিকপুর-মাহমুদপুরের মৈনট, নারিশা, মুকসেদপুর, বিলাশপুরসহ ১০/১২টি পয়েন্টে চলছে জমজমাট মাটি-ড্রেজার ব্যবসা।
এসময়ে প্রতিবেদকের কাছে এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় হাতেগনা কয়েকবালু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পদ্মা নদীতে ১০/১২টি ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে দিনে ও রাতে নদী তীরবর্তী এলাকায় মাটি কেটে তা পাহাড় সমান বালুর স্তুপ তৈরী করে প্রকাশ্যে বালু বিক্রী করছে।
এছাড়াও উপজেলার লটাখোলা বড় ব্রিজের নিচে,নারিশা পশ্চিমচর, মুকসুদপুর, বাশতলাসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় শ্যালো ও ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পাইপের সাহায্যে বালু তুলছে।
অনুসন্ধানে আরোও জানা যায়,শুকনো মওশুমে পদ্মানদীর উল্লেখিত পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ লক্ষ ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হয়।যার আনুমানিক মুল্য আড়াই থেকে তিন লাথ টাকা। এই টাকা প্রশাসন,বালু সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃবিন্দ ভাগ-বাটোয়ারা করে লুট করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীরা বালু উত্তোলন বন্ধ করতে প্রতিবছরই বার বার প্রশাসনকে তাগিদ দিলেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বালু ব্যবসায়ীরা তা আমলে না নিয়েই জোরেশোরে নদীর বুক চিরে বালু উত্তোলন করছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
এলাকাবাসীরা আরও অভিযোগ করে বলেন অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা প্রশাসনকে না জানিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় কিভাবে নদী থেকে বালু তুলে বিক্রি করছে সেটা তাদের বোধগম্য হচ্ছে না।
তারা বলেন শুকনো মৌসুমের কারণে নদীর পানি বর্তমানে কমে গেছে,তাই ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেনি। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে প্রবল ¯্রােতে নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তখন বাড়িঘর ও আবাদি জমির নদী গর্ভে বিলিন হবার আশংকায় তারা রীতিমত প্রমোদ গুণছে। এছাড়াও অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব আয় থেকে বি ত হচ্ছে।
এই বিষয়ে দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.সাজ্জাদ হোসেন জানান,বালু মহাল দেখ-ভালের দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার।তিনি ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ড্রেজার ও পাইপ লাইন ধ্বংস করবেন।পুলিশ ফোর্স সার্বক্ষনিক প্রস্তুত করা আছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা বলেন,মাস খানেক আগে অবৈধভাবে বালু লুটের অভিযোগে মৈনটঘাটের এক আওয়ামীলীগ নেতা বাহার খাঁকে ভ্রাম্যমান আদালতে নগদ এক লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।আবারও তারা বালু কাটছেন নদীর বুক চিরে। কোন অবৈধ বালু ব্যবসায়ীকেই ছাড় দেওয়া হবে না,অভিযান চালানো হবে।




একুশে মিডিয়া/এমএ

No comments:

Post a Comment

নিউজের নীচে। বিজ্ঞাপনের জন্য খালী আছে

Pages