বেলকুচিতে সিস বাজানোকে কেন্দ্র করে বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট - Ekushey Media bangla newspaper

Breaking News

Home Top Ad

এইখানেই আপনার বা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ: 01915-392400

নিউজের উপরে বিজ্ঞাপন

Tuesday, 21 April 2020

বেলকুচিতে সিস বাজানোকে কেন্দ্র করে বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট


সবুজ সরকার, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: 
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও শাহাজাদপুর উপজেলার দুই গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দফায়-দফায় হামলা, মামলা, বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উটেছে বেলতৈল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খায়রুল আলম ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। ভাংচুরের সময় ত্রিশ লাখ টাকার লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এছাড়া এসময় ৮০ বছরের বৃদ্ধাসহ ৩ জন আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে বেলকুচি উপজেলর ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের ভেন্নাগাঁছি শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়নের ভেন্নাগাছি গ্রামের কিছু যুবকদের মধ্যে সিস বাজানোকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এঘটনার সৃষ্টি হয়। 
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, কিছু দিন আগে শামচুল ফকিরে ছেলে জনি ফকিরে সাথে পাশের এলাকায় লোকজনের সাথে সিস বাজানো নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে এই বিষয় নিয়ে একে অপর পক্ষে মারধর হয়। এই বিষয় নিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস ও ভেন্নাগাঁছির দু'পক্ষের মুরুব্বিদের  হস্তক্ষেপে ২০ (এপ্রিল) এনিয়ে দু‘পক্ষের মধ্যে সালিশ মিমাংসা হয়ার কথাছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারনে দু'পক্ষের ১০ জন করে মুরুব্বি নিয়ে মিমাংসার কথা হয়। কিন্তু এই মিমাংসার না বসে শাজাদপুর উপজেলার  বেলতৈল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য খায়রুল আলমের নেতৃত্বে ২ শতাধিক লোকজন এসে  ফয়জাল শেখ, মহির শেখ, আফজাল শেখ, শাহজাহান ফকিরসহ  ৯ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের হামলার ঘটনা ঘটায়। এতে প্রায় ত্রিশ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থরা জানায়।
ক্ষতিগ্রস্থরা জানায়, আমাদের ৯ টি বাড়িঘর, আসবারপত্র, মটর সাইকেল, মটর ট্রিলার ভাংচুরসহ নগদ অর্থ লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এতে আমাদের প্রায় ত্রিশ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এঘটনায় ৮০ বছরের বৃদ্ধা সহ ৩ জনকে আহত করে।
জনি ফকির বলেন, গত এক মাস আগে পাশের এলাকায় বেলতৈলি গ্রামে আমরা কিছু বন্ধু বেড়াতে যাই। সেখানে সিস বাজানো কেন্দ্র করে এই এলাকার লোকজন আমাদের মারপিট করে। পরে এই এলাকার এক ছেলেকে আমরা চর থাপ্পড় দেয়। এই নিয়ে মামলাও হয়েছে। মিমাংসার কথাও চলছিলো। কিন্তু আজকে (২১ এপ্রিল) হঠাৎ করে অতর্কিত ভাবে খায়রুল মেম্বারের নেতৃত্বে ২ শতাধিক লোক এসে দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে আমাদেরসহ ৯ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেন। 
এ বিষয়ে ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়ন আওয়মীলীগের সভাপতি হাজী খোরশেদ আলম ও সাধারণ সম্পাদক আবুসামা জানান, কিছু দিন পূর্বে ঐ দুই গ্রামের মধ্যে মারমারি ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টা নিয়ে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস মিমাংসা করে দেয়ার জন্য ২০ এপ্রিল দিন ধ্যর্য করেন। কিন্তু করোনার কারেন মিমাংসার হয় না। পরে দু'পক্ষের ১০ জন করে মুরুব্বি নিয়ে মিমাংসার কথা হয়। কিন্তু এই মিমাংসা না করেই খাইরুল মেম্বারের পক্ষের লোকজন এসে বাড়ি ঘর ভাংচুর চালিয়ে ক্ষতিগ্র করে। খায়রুল মেম্বারের লোকজন কাজটা ভালো করেনি।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য খাইরুল ইসলাম বলেন, আমি আজকের ঘটনা কিছুই জানিনা, আমি দোকানে ছিলাম। কিছু কুচক্রী মহল আমাকে এই বিষয়ে জড়াচ্ছেন। তবে এই মারামারি ঘটনা নিয়ে মিমাংসার কথা চলছিলো দু'পক্ষের ১০ জন করে বসার কথা ছিলো কিন্তু বাকীদের বিষয়টা জানালে তারা মিমাংসার বিষয়টা অস্বীকার জানান। 
বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আমি ঘটনাটি শুনেচ্ছি। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ছিলাম। বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



একুশে মিডিয়া/এমএসএ

No comments:

Post a comment

নিউজের নীচে। বিজ্ঞাপনের জন্য খালী আছে

Pages