বাঁশখালীতে ওরশের নামে মাজার-মসজিদ দখলচেষ্টা, সংঘাতের আশঙ্কায় আয়োজন বন্ধ করল প্রশাসন - একুশে মিডিয়া একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যম হিসেবে সংবাদ পরিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

ক্লিক করুন

Breaking News

Home Top Ad

নিউজের উপরে বিজ্ঞাপন

Tuesday, 27 January 2026

বাঁশখালীতে ওরশের নামে মাজার-মসজিদ দখলচেষ্টা, সংঘাতের আশঙ্কায় আয়োজন বন্ধ করল প্রশাসন

একুশে মিডিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ওয়াকফভুক্ত মাজারে ওরশ আয়োজনকে কেন্দ্র করে জোরপূর্বক দখলচেষ্টা সংঘাত সৃষ্টির আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন ওই ওরশ মাহফিল বন্ধ করে দিয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন পুলিশ যৌথভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই ওরশ বন্ধের নির্দেশ দেয়।

ঘটনাটি ঘটে বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের পূর্ব বৈলগাঁও এলাকায় অবস্থিত হযরত ঝিনজি ফকির শাহ (রহ.)-এর মাজারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাজারটির প্রকৃত খাদেম পরিবার স্থানীয় এলাকাবাসী সম্ভাব্য সংঘাত, জোরপূর্বক দখলচেষ্টা এবং জননিরাপত্তার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনের সহকারী প্রশাসক (চলতি দায়িত্ব) গোলাম সরোয়ার স্বাক্ষরিত এক স্মারক নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, হযরত ঝিনজি ফকির শাহ (রহ.)–এর মাজারটি একটি নিবন্ধিত ওয়াকফভুক্ত এস্টেট। স্মারকে বলা হয়, সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত মতোয়াল্লী নাগু মিয়া গত জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দাখিল করা আবেদনে ওয়াকফ সম্পত্তিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, গাছপালা কর্তন, লুটপাট অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে এস্টেটটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা প্রদানের জন্য বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওই অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামশেদুল আলম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানী আকন এবং রামদাস মুন্সি হাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ তপন কুমার বাকচীসহ পুলিশের একটি দল মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয় এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ওরশ মাহফিল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী মাজার-মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, হযরত ঝিনজি ফকির শাহ (রহ.)- এর মাজারটি পূর্বপুরুষের বংশানুক্রমে পরিচালিত একটি অলি ওয়ারিশ ওয়াকফ এস্টেট। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ওয়াকফ প্রশাসনের ইসি নম্বর-২১৭০০ অনুযায়ী ২০২৩ সালে সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত মতোয়াল্লী হিসেবে নাগু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাজারের খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সংসদ সদস্য মরহুম জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর আমলে অনুষ্ঠিত এক স্থানীয় সালিশ বৈঠকেও তাঁর পক্ষেই রোয়েদাদ প্রদান করা হয়।

তারা আরও জানান, ওয়াকফ এস্টেটের অনুমোদনক্রমে ২০১২ সালে মতোয়াল্লী নাগু মিয়া মাজার সংলগ্ন একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করেন। মাজার মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ যাবতীয় ব্যয়ভার দীর্ঘদিন ধরে তিনি তাঁর পরিবার বহন করে আসছেন। তবে সম্প্রতি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে মাজার মসজিদ জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, হাজী আহমদুর রহমান হাজী আবু বক্কর নিজেদের খাদেম পরিচয় দিয়ে মাজার দখল করে ওরশ আয়োজনের প্রকাশ্য হুমকি দেন।

ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার জেলা পুলিশ সুপার (চট্টগ্রাম), বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাঁশখালী ক্যাম্পসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযুক্ত তমিজ উদ্দিন গংদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রতিপক্ষের লোকজন হুমকি দিতে থাকে বলেও দাবি করা হয়।

রামদাস মুন্সি হাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ তপন কুমার বাকচী বলেন, “প্রকৃত খাদেম পরিবার স্থানীয় জনগণের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জননিরাপত্তা রক্ষা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী আদেশে ওরশ মাহফিল বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জামশেদুল আলম বলেন, “মাজারের খাদেম স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে অভিযোগ আসে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। জননিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সাময়িকভাবে অনুষ্ঠানটি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

No comments:

Post a Comment

নিউজের নীচে। বিজ্ঞাপনের জন্য খালী আছে

Pages