চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে ৭ প্রার্থী, ত্রিমুখী লড়াইয়ে নির্ধারক হচ্ছে আঞ্চলিক ভিত্তি - একুশে মিডিয়া একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যম হিসেবে সংবাদ পরিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

ক্লিক করুন

Breaking News

Home Top Ad

নিউজের উপরে বিজ্ঞাপন

Friday, 23 January 2026

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে ৭ প্রার্থী, ত্রিমুখী লড়াইয়ে নির্ধারক হচ্ছে আঞ্চলিক ভিত্তি

মোহাম্মদ ছৈয়দুল আলম :

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী তৎপরতা ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। এই আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্বতন্ত্রসহ মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটের মূল আলোচনায় রয়েছেন তিনজন- বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী।

বাঁশখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনে রয়েছে ১৪টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসনের মোট ভোটার সংখ্যা লাখ ১১ হাজার ২৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন, মহিলা ভোটার লাখ ৯১ হাজার ২৮৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন জন। বিপুল এই ভোটার সংখ্যা ভৌগোলিক বিস্তৃতি নির্বাচনী লড়াইকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাঠপর্যায়ের তথ্য রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রত্যেক প্রার্থীই নিজ নিজ এলাকায় দলীয় সমর্থন ব্যক্তিগত প্রভাবকে ভিত্তি করে নির্বাচনী কৌশল সাজাচ্ছেন। বিএনপির প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার নিজ ইউনিয়ন কালীপুর, জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের শেখেরখীল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলীর গন্ডামারা এলাকায় নিজস্ব ভোটভিত্তি রয়েছে। পাশাপাশি গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুল হক শীলকূপ, ইসলামিক ফ্রন্টের মাওলানা আব্দুল মালেক কাথরিয়া, মুসলিম লীগের এহছানুল হক বাহারছড়া এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ রুহুল্লাহ পুকুরিয়া ইউনিয়নে সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছেন।

ভৌগোলিক বিবেচনায় বাঁশখালীকে উত্তর দক্ষিণ অংশে ভাগ করলে নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উত্তর বাঁশখালীর পুকুরিয়া, সাধনপুর, খানখানাবাদ, বাহারছড়া, কালীপুর, বৈলছড়ি, কাথরিয়া সরল- এই আটটি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। অন্যদিকে দক্ষিণ বাঁশখালীর শীলকূপ, চাম্বল, গন্ডামারা, শেখেরখীল, ছনুয়া পুঁইছড়ী- এই ছয়টি ইউনিয়নে জামায়াত ইসলামী প্রার্থী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাঁশখালী পৌরসভায় কোনো প্রার্থীর একক আধিপত্য না থাকায় এখানকার ভোট চূড়ান্ত ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

বিএনপির প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাবেক বন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর পুত্র। পিতার রাজনৈতিক আদর্শ, দলীয় আনুগত্য উন্নয়ন দর্শনের ধারাবাহিকতা বহন করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর সময়ে বাঁশখালীতে শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য অবকাঠামো খাতে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয়েছিল, সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা স্মৃতি এখনো ভোটারদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে। এসব বিষয় পাপ্পার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা মোহাম্মদ ইছাকের পুত্র। তিনি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং ধর্মীয়, রাজনৈতিক সামাজিক পরিমণ্ডলে তার পরিচিতি রয়েছে।
অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী সদ্য বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত গন্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং একজন ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

ছাড়া ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ থেকে মাওলানা আব্দুল মালেক, গণঅধিকার পরিষদ থেকে মো. আরিফুল হক, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ থেকে এহছানুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাফেজ রুহুল্লাহ নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, আঞ্চলিক ভিত্তি, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য, অতীত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা ভোটের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। একাধিক প্রার্থীর সক্রিয় উপস্থিতিতে ভোট বিভাজনের সম্ভাবনাও রয়েছে। শেষ পর্যন্ত যিনি স্থানীয় সমস্যা উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারবেন, তিনিই চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করতে পারবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

No comments:

Post a Comment

নিউজের নীচে। বিজ্ঞাপনের জন্য খালী আছে

Pages