মোহাম্মদ ছৈয়দুল আলম:
বাংলাদেশের একমাত্র ও ঐতিহ্যবাহী ১১ দিনব্যাপী দ্বাবিংশতম আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) থেকে চট্টগ্রামের বাঁশখালী ঋষিধামে শুরু হয়েছে। ভক্তি, ত্যাগ, সাধনা ও অদ্বৈত দর্শনের মহামিলন ঘটাতে দীর্ঘ প্রস্তুতির পর আয়োজকরা এই মহান ধর্মীয় আয়োজনের সূচনা করেছেন।
৬৩ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা কেবল বাংলাদেশের ভক্তসমাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভারত, নেপাল, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ভক্তবৃন্দ, সাধু-সন্ন্যাসী, ঋষি, যোগী ও ধর্মীয় বক্তাদের অংশগ্রহণে এটি আন্তর্জাতিক আধ্যাত্মিক মহামেলায় পরিণত হয়েছে। প্রতি তিন বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এই মহামেলায় দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ নারী-পুরুষ ভক্ত পুণ্যলাভের আশায় ঋষিধামে ছুটে আসেন।
আজ শুক্রবার থেকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পূজা-অর্চনা, নামসংকীর্তন, ধ্যান-যোগ সাধনা ও সাধুসমাবেশের মধ্য দিয়ে মেলার কার্যক্রম শুরু হলেও আগামীকাল শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। মহাশোভাযাত্রাটি ঋষিধাম প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে নির্ধারিত সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় ঋষিধামে এসে শেষ হবে।
মেলা শুরুর প্রাক্কালে দ্বাবিংশতম আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে বাঁশখালী ঋষিধামে একাধিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসব সভায় বাঁশখালী ঋষিধাম ও চট্টগ্রাম তুলসীধামের মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ পুরী মহারাজের উপস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সকল সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সকলের মতামত ও পরামর্শের আলোকে এবারের ১১ দিনব্যাপী দ্বাবিংশতম আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল, ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য অক্ষুণ্ণ রেখে পরিচালনার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন উদযাপন পরিষদ।
আয়োজক সূত্রে আরও জানা গেছে, এবারের মেলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও ভারত, নেপাল, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ভক্তবৃন্দ ও ধর্মীয় প্রতিনিধিরা নিয়মিত অংশগ্রহণ করবেন। এর ফলে বাঁশখালী ঋষিধাম আগামী ১১ দিন এক আন্তর্জাতিক তীর্থভূমি ও অদ্বৈত চেতনার মিলনকেন্দ্রে পরিণত হবে।
বাঁশখালী ঋষিধামে অনুষ্ঠিত পৃথক পৃথক মতবিনিময় সভায় পৌরহিত্য করেন ঋষিধাম ও তুলসীধামের মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ পুরী মহারাজ। সভায় দ্বাবিংশতম আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট অনুপম বিশ্বাসের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন শ্রীগুরু সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিমল কান্তি দেব, ঋষি অদ্বৈতানন্দ পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ্রী কাঞ্চন বিশ্বাস, অর্থ সচিব শ্রী তড়িৎ কান্তি গুহ, মহিলা শাখার সভানেত্রী শ্রীমতি পান্না পাল, অলক দাশ, শ্রী প্রদীপ কান্তি গুহ, শ্রী ঝুন্টু কুমার দাশ, পরিষদ কর্মকর্তা দোলন দাশ, বাঁশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি শ্রী অনুপম কুমার অভি, সদস্য সচিব মিজান বিন তাহেরসহ আরও অনেক নেতৃবৃন্দ।
মতবিনিময় সভায় আশীর্বচন প্রদানকালে মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ পুরী মহারাজ
বলেন-
“পরম পূজ্য শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই পবিত্র ঋষিধামে ১৯৫৭ সাল থেকে বাংলাদেশের একমাত্র ঋষিকুম্ভ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবার দ্বাবিংশতম আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা সেই মহান ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা। এই মহামেলায় শুধু বাংলাদেশের নয়-ভারত, নেপাল, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশের সাধক, ঋষি, ধ্যানী-যোগী ও ভক্তবৃন্দের মিলনে অদ্বৈত চেতনার জাগরণ ঘটে। এখানে সংকীর্ণতা ও বিভেদ দূর হয়ে মানবিকতা, উদারতা ও আত্মিক মুক্তির দ্বার উন্মোচিত হয়। এ মহান আয়োজন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে গণমাধ্যমসহ সকলের আন্তরিক সহযোগিতা অপরিহার্য।”
ভক্তি, শান্তি, সাম্য ও মানবকল্যাণের মহাবাণী ধারণ করে আজ থেকে শুরু হওয়া এই আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা আগামী ১১ দিন ধরে দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ ভক্তসমাজের কাছে এক অনন্য আধ্যাত্মিক উৎসব হিসেবে পরিগণিত হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।




No comments:
Post a Comment