যাচাই-বাছাই শেষে বাঁশখালীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ৮ জনে, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী বাদ - একুশে মিডিয়া একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যম হিসেবে সংবাদ পরিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

ক্লিক করুন

Breaking News

Home Top Ad

নিউজের উপরে বিজ্ঞাপন

Sunday, 4 January 2026

যাচাই-বাছাই শেষে বাঁশখালীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ৮ জনে, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী বাদ

মোহাম্মদ ছৈয়দুল আলম:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে। আজ রোববার (৪ জানুয়ারী) চট্টগ্রাম রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাইয়ে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আরিফুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে এই আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, এলডিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্বতন্ত্রসহ মোট জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে এখন জন প্রার্থী বৈধতা পেয়েছেন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বাঁশখালীতে দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা ভোটের ক্ষেত্রে বড় নিয়ামক হয়ে উঠছে। ভোটাররা প্রার্থীর অতীত কর্মকাণ্ড, সামাজিক অবস্থান এবং এলাকায় তার পরিচিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে করছেন তারা।

যাচাই-বাছাইয়ে টিকে থাকা প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি-

মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা (বিএনপি)

প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর পুত্র। তার বাবা একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য শক্ত স্থানীয় নেটওয়ার্ককে পুঁজি করে এবার মাঠে রয়েছেন তিনি।

অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম (জামায়াতে ইসলামী)

দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা মোহাম্মদ ইছাকের পুত্র। সাবেক ইউপি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। শিক্ষা ধর্মীয় পরিমণ্ডলে তার ভালো গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

মোহাম্মদ লেয়াকত আলী (স্বতন্ত্র)

বিএনপি ঘরানার নেতা হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনে অংশ নিতে ইউপি চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করায় এলাকায় বেশ আলোচনায় রয়েছেন। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা তার বড় শক্তি।

আব্দুল মালেক (ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ)

ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে সক্রিয়। মসজিদকেন্দ্রিক সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক গড়ে তুলেছেন।

মুহাম্মদ মুসা (বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি)

ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতির প্রবক্তা। স্থানীয় ওয়াজ দাওয়াতি কার্যক্রমে পরিচিত মুখ।

এহছানুল হক (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ)

দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয়। সামাজিক মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে তার একটি স্থায়ী সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে।

মো. কফিল উদ্দিন চৌধুরী (এলডিপি)

আইনজীবী সাবেক জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পুরোনো কর্মী হিসেবে পরিচিত।

হাফেজ রুহুল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)

কোরআনে হাফেজ ইসলামি বক্তা। নৈতিক রাজনীতি সুশাসনের বার্তা দিয়ে ধর্মপ্রাণ ভোটারদের সমর্থন পেতে চেষ্টা করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একাধিক শক্ত প্রার্থী থাকায় আসনে ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত যিনি স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন ভাবনা ব্যক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতার মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারবেন, তিনিই এগিয়ে থাকবেন।

সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি, যেখানে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তি ইমেজই বিজয়ের চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে

No comments:

Post a Comment

নিউজের নীচে। বিজ্ঞাপনের জন্য খালী আছে

Pages