মোহাম্মদ ছৈয়দুল আলম:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) সংসদীয় আসনে এবার দলীয় পরিচয় বা প্রতীক থেকে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং স্থানীয়ভাবে অর্জিত গ্রহণযোগ্যতা। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আসনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে প্রার্থীর কর্মকাণ্ড, ব্যক্তিত্ব এবং এলাকায় তার পরিচিতি। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, এলডিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং স্বতন্ত্র-মোট ৯ জন প্রার্থী এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন এসব প্রার্থী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার বাঁশখালীতে ভোটের হিসাব-নিকাশে দলীয় প্রতীক থাকলেও ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখবে প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড, সামাজিক অবস্থান ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতা।
প্রার্থীদের সংক্ষিপ্ত তথ্য;
মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা (বিএনপি)
প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর পুত্র। তার বাবা ১৯৯৬ সালে দু’বার এবং ২০০১ ও ২০০৯ সালে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও স্থানীয় নেটওয়ার্ককে শক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগিয়ে পাপ্পা এবার নির্বাচনী মাঠে নামছেন। সামাজিক উন্নয়ন, রাজনীতি ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে পরিচিত হলেও এ নির্বাচনে তার চূড়ান্ত পরীক্ষা হতে যাচ্ছে ভোটারদের আস্থা ও সমর্থন অর্জনে।
অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম (জামায়াতে ইসলামী)
দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা মোহাম্মদ ইছাকের পুত্র। সাবেক ইউপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। শিক্ষা ও ধর্মীয় পরিমণ্ডলে তার গ্রহণযোগ্যতা জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে তাকে শক্ত অবস্থানে রেখেছে।
মোহাম্মদ লেয়াকত আলী (স্বতন্ত্র)
বিএনপি ঘরানার নেতা হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনে অংশ নিতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন-যা এলাকায় বেশ আলোচিত। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও স্থানীয় সংগঠনের সমর্থন নিয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারেন।
আব্দুল মালেক (ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ)
ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে সক্রিয়। মসজিদকেন্দ্রিক সামাজিক কাজ ও স্থানীয় ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক তার পক্ষে রয়েছে।
মো. আরিফুল হক (গণঅধিকার পরিষদ)
তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা ও দুর্নীতিবিরোধী বক্তব্যের কারণে শিক্ষিত তরুণ ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
মুহাম্মদ মুসা (বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি)
ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতির প্রবক্তা। স্থানীয়ভাবে ওয়াজ ও দাওয়াতি কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিচিত মুখ।
এহছানুল হক (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ)
দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয়। সামাজিক সংগঠন ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে একটি স্থির সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে।
মো. কফিল উদ্দিন চৌধুরী (এলডিপি)
আইনজীবি ও সাবেক জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি)। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পুরোনো কর্মী। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ও দলীয় আদর্শের প্রতি অনুগত ভোটারদের সমর্থন তার মূল শক্তি।
হাফেজ রুহুল্লাহ (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)
কোরআনে হাফেজ ও ইসলামি বক্তা হিসেবে পরিচিত। নৈতিক রাজনীতি ও সুশাসনের বার্তা দিয়ে তিনি ধর্মপ্রাণ ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে চাইছেন।
বাঁশখালী আসনে অতীতে দলীয় রাজনীতির প্রভাব থাকলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। একাধিক শক্ত প্রার্থী মাঠে থাকায় ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা প্রবল। ফলে শেষ পর্যন্ত যে প্রার্থী স্থানীয় সমস্যা, উন্নয়ন ভাবনা ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা দিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারবেন, তিনিই এগিয়ে থাকবেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি, যেখানে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তি ইমেজই নির্ধারণ করবে বিজয়ের চাবিকাঠি।




No comments:
Post a Comment