সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলাধীন চরপাড়া গ্রাম জনশূন্য হয়ে পরেছে-একুশে মিডিয়া - একুশে মিডিয়া একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যম হিসেবে সংবাদ পরিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

ক্লিক করুন

Breaking News

Home Top Ad

নিউজের উপরে বিজ্ঞাপন

Monday, 8 October 2018

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলাধীন চরপাড়া গ্রাম জনশূন্য হয়ে পরেছে-একুশে মিডিয়া


একুশে মিডিয়া, এম ডি হাফিজুর রহমান (সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি):
সিরাজগঞ্জ জেলাধীন উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী, একাধিক মামলার আসামী আলাউদ্দিন আল-আজাদ পুলিশের হাত থেকে হাতকড়াসহ ছিনতাই এর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণগ্রেফতারের ভয়ে ও বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনায় আতঙ্কে কয়ড়া চরপাড়া গ্রাম এখন পুরুষ শুন্য হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতি হয়েছে যে, সাতদিন ধরে আজান ও নামাজ আদায় বন্ধ রয়েছে এলাকার মসজিদে।
ওই এলাকায় সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসি জানান যে, ১লা অক্টোবর মরহুম জয়নাল আবেদীন তালুকদারের কূলখানিতে সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় জনসাধারণসহ প্রায় সাত হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ করা হয়। ওই আমন্ত্রণে জায়ামাত নেতা আলাউদ্দিন আল-আজাদ আকস্মিকভাবে উপস্থিত হন। পুলিশ তার উপস্থিতির বিষয়টি জানতে পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে গ্রেফতার করে হাতকড়া পড়ায়। এসময় এলাকার কতিপয় জামায়াত-শিবিরকর্মী তাকে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় এবং পালিয়ে যেতে সাহায্য করে, যা আমাদের কাম্য ছিল না। পুলিশ পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করতে না পেরে ওইদিন রাতে আওয়ামীলীগের অনেক ত্যাগী পরিবার ও সাধারণ মানুষের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বেদম মারপিট ও ভাংচুরের তান্ডবলীলা চালায়। এতে ৮/১০টি পরিবারের নারী, পুরুষ বৃদ্ধ ও শিশুরা পুলিশের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন। তাদের দাবি, দোষি ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে করে গ্রামের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ভীতি দূর করা হোক।
ভদ্রকোল গ্রামের স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুস সালামের ছেলে রকিবুল ইসলাম রকিবের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১অক্টোবর পুলিশের হাতে আটক জামায়াত নেতা হাতকড়াসহ পালানোর পর থেকে উল্লাপাড়া থানা পুলিশের অভিযানে কয়ড়া চরপাড়া গ্রামের স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে গণগ্রেফতার ও ৮/১০ বাড়িঘরের আসবাবপত্র, মোটরসাইকেল, টিভি, ফ্রিজ ও রান্না করার চুলা ভাংচুর করা হয়েছে। এসময় রেহাই পায়নি কোলের অবুঝ শিশুও। এছাড়া, পুলিশের অভিযানে আমার ছোট ভাই উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি রাশেদুল ইসলাম, উল্লাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক শফিকুল ইসলাম, উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সদস্য ঝর্না খাতুন, কয়ড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম খোকার পরিবারের সদস্যদের মারপিট ও বাড়িঘর ভাংচুর করে অপুরণীয় ক্ষতিসাধন করেছে পুলিশ। এমতাবস্থায় পুলিশের গণগ্রেফতার, মারপিট ও ভাংচুরের ভয়ে এলাকার নারী, পুরুষ ও বয়োবৃদ্ধরা গ্রাম ছেড়ে বিভিন্ন অন্যত্র অবস্থান করে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এমন ভীতিকর পরিস্থিতিতে অন্য গ্রামের মানুষও এখন চরপাড়া গ্রামে প্রবেশ করতে সাহস পাচ্ছেনা। এমনকি এলাকা পুরুষ শুন্য হওয়ায় গত সাতদিন ধরে গ্রামের কোন মসজিদে আজান ও নামাজ আদায় হচ্ছেনা। 
এবিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি দেওয়ান কৌশিক আহমেদ জানান, পুলিশ কোন হামলা বা ভাঙচুর করেনি। আসামী ধরতে রুটিন ওয়ার্ক করা হচ্ছে মাত্র। তিনি আরো বলেন, প্রতিটি এলাকায় একটি প্রতিপক্ষ থাকে, ওই এলাকাও তার ব্যতিক্রম নয়। বিধায় এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্যকোন প্রতিপক্ষ লুটতরাজ করে তার দায়ভার পুলিশের উপর চাপাচ্ছে। গ্রাম পুরুষ শুন্য এবং মসজিদে নামাজ বন্ধ বিষয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি আত্মগোপনে থেকে গ্রামে না আসে সে ক্ষেত্রে আমরা কি করতে পারি আর এতে আমাদের দোষ কি? একুশে মিডিয়া।

No comments:

Post a Comment

নিউজের নীচে। বিজ্ঞাপনের জন্য খালী আছে

Pages