![]() |
এম ডি হাফিজুর রহমান, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
একাত্তরের পর থেকেই কোনো না কোনো মন্ত্রী ছিল (তৎকালীন পাবনা) সিরাজগঞ্জ জেলায়। কিন্তু পূর্বের রেকর্ড ভেঙ্গে আজ মন্ত্রী শূন্য হল সিরাজগঞ্জ বাসী। ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার থেকে শুরু করে সদ্য বিদায়ী শেখ হাসিনা সরকারেও মন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন সিরাজগঞ্জের নেতারা। কিন্তু স্বাধীনতার পর এবারই মন্ত্রী নেই সিরাজগঞ্জ জেলায়।
রোববার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রীদের নাম ঘোষণার সময় টেলিভিশনের সামনে অনেক আগ্রহ নিয়ে বসেছিল সিরাজগঞ্জের অনেকে। তারা ভেবেছিল পূর্বের ধারাই অব্যাহত থাকবে। কিন্তু মন্ত্রীর তালিকায় সিরাজগঞ্জ জেলার কোনো নেতার নাম না থাকায় হতাশ এখানকার আওয়ামী লীগ কর্মী ও সমর্থকরা। এ নিয়ে দিনভর পুরো সিরাজগঞ্জ জুড়ে আলোচনার ঝড় বয়ে গেছে। অনেকেই আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করেছে।
সিরাজগঞ্জ জেলার রাজনৈতিক সচেতনরা বলেন- ১৯৭১ সালে মুজিব নগর সরকারের মন্ত্রী ছিলেন জাতীয় চার নেতার অন্যতম সিরাজগঞ্জের সন্তান শহীদ এম মনসুর আলী। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী ও পরে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন তিনি। ওই সময় বেলকুচি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন তালুকদারও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। জিয়াউর রহমান সরকারের আমলেও মন্ত্রীত্ব পান ডা. এম এ মতিন। পরবর্তীতে এরশাদের আমলে মন্ত্রী এবং উপ-প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারে সিরাজগঞ্জ-৬ (চৌহালী) আসন থেকে নির্বাচিত আনছার আলী সিদ্দিকী প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকারে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী পরে স্বরাষ্ট্র এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ নাসিম। একই সরকারে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন হাসিবুর রহমান স্বপন। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
এছাড়াও ২০০৮ সালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নিযুক্ত হন আব্দুল লতিফ বিশ্বাস। ওই সরকারে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা নিযুক্ত হন এইচ টি ইমাম। ২০১৪ সালে মহাজোট সরকার টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ নাসিম। কিন্তু এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ জেলার ছয়টি আসনে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। বিপুল ভোটে বিজয়ের পুরস্কার হিসেবে অন্তত একজন মন্ত্রী পাবেন, এমনটাই আশা করেছিল সিরাজগঞ্জ বাসী। কিন্ত টেলিভিশনে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নামের তালিকা দেখে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে।
আওয়ামীলীগ কর্মীদের ধারণা ছিল যে, জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এম মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিম আবারও মন্ত্রীত্ব পাবেন। পাশাপাশি জেলার বাকি পাঁচটি আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে আরও একজনকে মন্ত্রী হিসেবে দেখা যাবে।
উধুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল প্রামাণিক বলেন, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জে প্রতিটি সরকারের আমলে মন্ত্রীত্ব দেওয়া হয়েছিল। এমনকি এ জেলা থেকে প্রধানমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রীও দেওয়া হয়েছিল। সিরাজগঞ্জ জেলায় মন্ত্রী না থাকা মানে সিরাজগঞ্জ বাসীর জন্য এটা একটা দুর্ভোগ। এতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কিছুটা হলেও ধীরগতি হবে।
এ বিষয়ে উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাহমুদ আলী বাবু বলেন- আমরা উল্লাপাড়া উপজেলা বাসী ভেবেছিলাম যে, এবার উল্লাপাড়া থেকে তানভীর ইমাম পাবেন মন্ত্রীত্ব। কিন্তু মন্ত্রী সভায় আমরা সিরাজগঞ্জের কোনো মন্ত্রীই পেলাম না। এতে আমরা অত্যন্ত হতাশাগ্রস্ত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের দাবী সিরাজগঞ্জে অন্তত একজনকে হলেও মন্ত্রীত্ব দেওয়া হোক।
একুশে মিডিয়া/এমএসএ




No comments:
Post a Comment