অনিয়মতান্ত্রিক হাসপাতাল কার্যক্রম পরিদর্শনে আ’লীগ সংসদীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক!-একুশে মিডিয়া - একুশে মিডিয়া একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যম হিসেবে সংবাদ পরিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

ক্লিক করুন

Breaking News

Home Top Ad

নিউজের উপরে বিজ্ঞাপন

Tuesday, 3 July 2018

অনিয়মতান্ত্রিক হাসপাতাল কার্যক্রম পরিদর্শনে আ’লীগ সংসদীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক!-একুশে মিডিয়া




একুশে মিডিয়া:
মাদারীপুর প্রতিনিধি: হঠাৎ মাদারীপুরের শিবচর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শন করলেন আওয়ামীলীগ সংসদীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি নূর-ই আলম চৌধুরী এমপি। এসময় হাসপাতালটির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ অধিকাংশ চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকাসহ বেশ কিছু অনিয়ম অসংগতি অবলোকন করেন তিনি। এক পর্যায়ে তিনি কর্মকর্তা কর্মচারীদের হাজিরা খাতার উপস্থিতির ছবি নিজ মোবাইলে তুলে নেন। এসময়  অনেকে নানান অনিয়ম ও সংকটের অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে জানা যায়, সোমবার সকাল থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য নূর-ই আলম চৌধুরী জেলার শিবচর উপজেলার উমেদপুরে একটি কলেজের ৪ তলা বিশিষ্ট ভবন উদ্বোধনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড উদ্বোধন ও পরিদর্শন করেন। দুপুর সাড়ে ৩ টার পর কাউকে কিছু না বলেই তিনি তার গাড়ি বহর নিয়ে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আবু জাফরের তালাবদ্ধ কক্ষের সামনে প্রায় দশ মিনিট অবস্থান করেন। পরে খবর পেয়ে কর্মচারীরা এসে কক্ষটি খুলে দিলে সংসদ সদস্য নেতৃবৃন্দদের নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করেন। তিনি এসময় হাসপাতালে উপস্থিত ডাঃ মোঃ শাহিন ও ডাঃ মানষী রানী সরকারের কাছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারন জানতে চান। এক পর্যায়ে তিনি কর্মকর্তা কর্মচারীদের হাজিরা খাতার উপস্থিতির ছবি নিজ মোবাইলে তুলে নেন। সংসদ সদস্যর পরিদর্শনকালে অনেকেই চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, এক্সরে মেশিন অকেজোসহ নানান অনিয়ম ও সংকটের অভিযোগ করেন।
এসময় সংসদ সদস্যর সাথে জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি মুনির চৌধুরী, শিবচর পৌর মেয়র আওলাদ হোসেন খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইমরান আহমেদ, ওসি জাকির হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বিএম দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি সামসুদ্দিন খান, সহ সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র আঃ লতিফ মোল্লা, সাধারন সম্পাদক ডাঃ মোঃ সেলিম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্র জানায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১৭ জন চিকিৎসক পোস্টিং রয়েছেন। এরমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জাফর মিয়া, ডাঃ মইনুল ইসলাম, ডাঃ আফানুর রহমান আদনান, ডাঃ সুলতানা মালিহা নাজনিন এফসিপিএস পরীক্ষা দিতে ছুটিতে রয়েছেন। বিভিন্ন ইউনিয়নের কর্মরত সাব সেন্টারের এই হাসপাতালে পোস্টিং থাকলেও ৬ জন চিকিৎসক প্রেষনে (ডেপুটিশন) ডাঃ রুবিনা আক্তার (বাঁশকান্দি), ডাঃ বর্ষা যাচিন্তা সরেন (সহকারী সার্জন বহেরাতলা), ডাঃ ইসরাত জাহান (মাদবরচর), ডাঃ আজমেরী শারমিন (চরজানাজাত) ডাঃ শেখ সাইফুল আলম শাহীন ( বন্দরখোলা) ,তারই স্ত্রী ডাঃ হোসনে আরা ( কাদিরপুর) অন্য এলাকার বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। ডাঃ মাহামুদুল হাসান আকাশ স্ত্রীর দেওয়া নারী নির্যাতন মামলায় সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন।  একমাত্র বন্দরখোলা ইউনিয়নের ডাঃ সঞ্জয় হালদার এলাকায় রয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আবু জাফরের মোবাইলে ফোন দিলে তিনি জানান, মোট ১৭ জন চিকিৎসক রয়েছেন এ হাসপাতালে। আমিসহ চার জন চিকিৎসক এফসিএস পরীক্ষার জন্য ছুটিতে ঢাকায় রয়েছি। ৬জন ডেপুটিশনে ঢাকায় রয়েছেন। ১জন বরখাস্ত রয়েছেন।
জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও পার্লামেন্টারি পার্টির সেক্রেটারী নূর-ই আলম চৌধুরী এমপি বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করা হলো। যে সকল ডাক্তার দায়িত্ব অবহেলা করবেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সূত্র: কারেন্টনিউজ।


No comments:

Post a Comment

নিউজের নীচে। বিজ্ঞাপনের জন্য খালী আছে

Pages