![]() |
একুশে মিডিয়া:
ভোলায় প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে বাংলাদেশী পাসপোর্ট করতে এসে মঙ্গলবার এক রহিঙ্গা নারীসহ ৩ জন আটক হয়েছেন। পাসপোর্ট অফিসে আবেদন ফরম জমা দেয়ার সময় ওই রহিঙ্গা নারী অসংলগ্ন ভাষায় কথা বলেন। পরে তার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে থাকেন। এ সময় সন্দেহ হওয়ায় এদের আাটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। জন্ম সনদ অনুযায়ী পাসপোর্ট আদেনকৃত ফরমে ওই নারীর নাম উল্লেখ করা হয় আনোয়ারা বেগম, পিতার নাম আবু মিয়া, মাতার নাম নুরজাহান বেগম, স্বামীর নাম আবু আহাম্মদ। বাড়ির ঠিকানা ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড, ডাকঘর কর্তারহাট, পোষ্ট কোর্ড ৮৩৩০। গত ২৬ জুন তারিখে জন্ম নিবন্ধন সনদ দেন লালমোহন উপজেলার ৮ নং রমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ মোস্তাফিজুর রহমান। নিবন্ধন নং ১৯৯৪০৯১৫৪৭৬১০৫৩৭০। যা অন লাইনেও রয়েছে। এমন কী পাসপোর্ট আবেদন ফরম সত্যায়িত করেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান। ভোলার পাসপোর্ট আঞ্চলিক অফিসের উপসহকারী পরিচালক খন্দকার তাজুল ইসলাম জানান, বিধান অনুযায়ী ওই নারীর উপস্থিতিতে,তার বর্ননা শুনে আদেন ফরম সত্যায়িত করার নিয়ম। সে ক্ষেত্রে একজন দায়িত্বশীল ইউপি চেয়ারম্যান কী করে ওই আদেন ফরম সত্যায়িত করলেন। একই সঙ্গে জন্ম নিবন্ধন সনদ দিলেন। ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তার চৌকিদার ওই আবেদন ফরম দেন বলে তিনি স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু ওই নারী রহিঙ্গা কিনা তা তিনি জানতেন না।
ওই নারীর সঙ্গে সহযোগী হিসেবে আসা জাফর ও তার স্ত্রী হালিমা খাতুনকে পুলিশ আটক করেছে। জাফর ওই আলোচিত ষোড়শী আনোয়ারাকে তার বোন হিসেবে পরিচয় দেন। জাফর কক্সবাজারের রামুতে ট্রাক চালক হিসেবে কর্মরত। হালিমা খাতুনের বাড়িও ওই এলাকায়। জাফরের দাবি আনোয়ারাকে ৮ বছর আগে রামুতে পেয়ে তিনি লালন পালন করছেন। এদিকে পাসপোর্ট অফিসের ডাটা এন্টি অফিসার লিটন বড়–য়া জানান, তিনি আনোয়ারার সঙ্গে তার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে বুঝতে পারেন, আনোয়ারা তথ্য গোপন করছেন। তবে আনোয়ারার বয়স ১৬ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। ষোড়শী ওই মেয়েকে বিদেশে পাচার করার উদ্দেশ্যে পাসপোর্ট করা হচ্ছে এমন বিষয়ও সন্দেহের তালিকায় আসে। পাসপোর্ট অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক জানান, আটক ৩ জনের মধ্যে পাসপোর্টের জন্য কেবল আনোয়ারা আবেদন করেন। ইমাজেন্সি পাসপোর্টের জন্য ৬ হাজার ৯শ টাকা জমা দেন। ৩ থেকে ১১ দিনের মধ্যে তিনি ওই পাসপোর্ট পাওয়ার কথা ছিল। এদিকে ওই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনেও তোলপার শুরু হয়েছে। ভোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছগির মিয়া জানান, আটক ৩ জনের মধ্যে ২০ বছর বয়সী আনোয়ারাকে নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তার ব্যাপারে রহিঙ্গা ক্যাম্প ও মায়ানমারে খোজ খবর নেয়া হচ্ছে। পুলিশ সুপার মোকতার হোসেন জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেন কিভাবে ওই মেয়ের ভোলায় আসা , সবটাই খোজ নেয়া হচ্ছে। আটক জাফর জানান, তার বাড়ি লালমোহনের রমাগঞ্জ ইউনিয়র কর্তারহাটের চান মিয়া দালাল বাড়ি। আনোয়ারাকে ৮ বছর আগে রামু থেকে পেয়ে তার কাছেই রাখেন। ওর বাবা মা নেই। জাফর ৮ বছর আগে হালিমাকে বিয়ে করেন বলেও জানান। পুলিশ জাফরের জাতীয় পরিচয়পত্র জব্ধ করেছে।





No comments:
Post a Comment