![]() |
ডাঃ মোঃ হাফিজুর রহমান (পান্না), রাজশাহী:>>>
রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক নদীর পাড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ভাঙন ফলে ধ্বসে পড়ছে নদীর পাড়ের মাটি। ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে বাঘা উপজেলা পাকুড়িয়া ইউনিয়নের কিশোরপুর ও গোকুলপুর এলাকায়। এরই মধ্যে গ্রাম দুটির আড়াই কিলোমিটার নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। বিশেষ করে জমি ও গাছপালা নদীতে গর্ভে চলেগেছে। পদ্মার পাড় থেকে ৪০-৫০ গজ দূরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। উদ্যোগের অভাবে অরক্ষিত রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মূল বাঁধও।
রবিবাার সকালে দিকে ভাঙন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কিশোররুপ গ্রামের তারু হোসেনের বাড়ির পশ্চিমের বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্লক বসানো আছে। আর ভাঙন শুরু হয়েছে তার বাড়ির পূর্ব দিক থেকে। দেখা গেছে গোকুলপুর খেয়াঘাট এলাকার তোজাম্মেল মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত। ভাঙন রোধে বছর পর বছর বাঁশের বেড়া দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে প্রকল্পের আওতায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর তীর সংরক্ষণের কাজ করা হয়েছে। তারপরও নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না এ এলাকা। স্থানীয় ব্যাক্তরা জানান গত ১২ বছরে পদ্মার ভাঙনে এসব এলাকার সহ¯্রাধিক বাড়িসহ পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, বিজিবি ক্যাম্প ও কয়েক হাজার বিঘা আবাদি-অনাবাদি জমি চলে গেছে নদীর গর্ভে। ভাঙনে ফলে গৃহহারা হয়েছে হাজার হাজার পরিবার।
২০০০ সালে মীরগঞ্জ, আলাইপুর হয়ে গোকুলপুর, কিশোরপুর পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। তারপর থেকেই প্রতি বছর ভাঙতে থাকে পদ্মা। ২০০৪ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন কবলিত জায়গাগুলোতে বালুর বস্তা দিয়ে তা ঠেকানোর পর ২০০৫ সালে উদয়নগর বিজিবি ক্যাম্পসহ চৌমাদিয় গ্রামটি রক্ষার জন্য ব্লক বসানো হয়। সেই ব্লক বসানোর কয়েকদিন পর সেগুলো নদীতে ভেসে যায়।
পাকুড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফকরুল হাসান বাবলু বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তার বাস্তবায়ন এখনও হয়নি।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা জানান, জেলা প্রশাসককে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক জানান, নদীর তীরবর্তী চার হাজার ৩০০ মিটার ব্লক বসানোর কাজের জন্য প্রস্তাবিত একটি মেগা প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের জন্য পাঠানো আছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা হবে।
একুশে মিডিয়া/এমএসএ




No comments:
Post a Comment