একুশে মিডিয়া:
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বাঁশখালী উপজেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মুহাম্মদ সরওয়ার হোসাইন চৌধুরীর মৃত্যুতে নাগরিক শোকসভা আয়োজন এবং ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা সরওয়ার হোসাইন চৌধুরী স্মৃতি সংসদ’-এর আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে এক প্রস্তুতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ২ জুন বিকেল ৪টায় বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের রায়ছটা গ্রামে মরহুমের নিজ বাসভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. আকতার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মুহাম্মদ জসীম চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভাটি পরিচালিত হয়।
সভায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বাঁশখালীর কৃতিসন্তান, মুক্তিযুদ্ধকালীন বিএলএফ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ ডা. মো. আবু ইউসুফ চৌধুরী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি মরহুমের স্মরণে ‘শোকস্মারক’ প্রকাশনা ও নাগরিক শোকসভার সফল আয়োজন কামনা করেন এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা সরওয়ার হোসাইন চৌধুরী স্মৃতি সংসদ’ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ও শিক্ষানুরাগী মো. মোস্তফিজুর রহমান চৌধুরীকে আহ্বায়ক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. আকতার হোসেন চৌধুরীকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইসমাইলকে সদস্য সচিব মনোনীত করা হয়।
এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফয়েজ আহমদকে সহ-সদস্য সচিব, মুহাম্মদ জসীম চৌধুরীকে সমন্বয়কারী এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. জসীম উদ্দিন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মো. আবদুল ওয়াজেদ সিদ্দিকী ও ডা. এম এ রাসেলকে সহ-সমন্বয়কারী করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মো. হুমায়ুন কবির চৌধুরী, মো. সাদ্দাম হোসেন, মো. শেয়ার আলী, মো. শাহেদুল হক চৌধুরী, মরহুমের সন্তান মো. ফারদিন হোসাইন চৌধুরী, মো. সাকিব চৌধুরী, মো. মোস্তাকিম উল হক ও মো. আনছার উল হকসহ অনেকে।
সভায় মরহুমের স্মরণে নাগরিক শোকসভা, স্থানীয় মাদ্রাসা ও এতিমখানায় কোরআনখানি, জামে মসজিদে মিলাদ মাহফিল, হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবা ও রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি এবং তথ্যসমৃদ্ধ ‘শোকস্মারক’ গ্রন্থ প্রকাশের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এ উপলক্ষে অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল হোসেনকে আহ্বায়ক, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ আমজাদ হোসেনকে সদস্য সচিব এবং সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক মুহাম্মদ জসীম চৌধুরীকে সম্পাদক করে সাত সদস্যের ‘শোকস্মারক’ গ্রন্থ প্রকাশনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়।
এছাড়া চৌধুরীঘাটের মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের একটি দোকানকে ‘নাগরিক শোকসভা ও স্মৃতি সংসদ’-এর স্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় মো. জালাল হোসাইন চৌধুরী, মো. নজরুল ইসলাম, মো. আব্বাস উদ্দীন, আহমদ নবী, মো. সায়েম উদ্দিন, মো. হাফেজ আরমান, মো. আরমান উদ্দীন, মো. মিয়াজ উদ্দিন, মো. ফাহিম চৌধুরী, মো. মাহিম চৌধুরী, মোহাম্মদ রিপন ও মোহাম্মদ শিপনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে মরহুমের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে প্রস্তুতি ও মতবিনিময় সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, নাগরিক শোকসভা ও স্মৃতি সংসদের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং সহযোগিতার লক্ষ্যে বৃহত্তর চট্টগ্রামের স্বেচ্ছাসেবী ও মানবাধিকার সংগঠন ‘প্রজন্ম চট্টগ্রাম-বাঁশখালী উপজেলা শাখা’র নেতৃবৃন্দ সম্পৃক্ত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।




No comments:
Post a Comment