একুশে মিডিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভক্তি, ত্যাগ, সাধনা ও অদ্বৈত দর্শনের চিরন্তন আদর্শকে ধারণ করে বাংলাদেশের একমাত্র ও ঐতিহ্যবাহী ১১ দিনব্যাপী দ্বাবিংশতম আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলার ষষ্ঠ দিনে আন্তর্জাতিক ঋষি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বাঁশখালী ঋষিধাম প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ঋষি, সাধু-সন্ন্যাসী, আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব, ভক্ত ও অনুসারীরা অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে প্রধান আশীর্বচন ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন বাঁশখালী ঋষিধাম ও চট্টগ্রাম তুলসীধামের মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ পুরী মহারাজ।
আন্তর্জাতিক ঋষি সম্মেলনে আশীর্বচন প্রদানকালে মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ পুরী মহারাজ বলেন, “ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা কেবল একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়; এটি মানবতার মহামিলন ও আধ্যাত্মিক চেতনার উৎসব। অদ্বৈত দর্শনের মূল শিক্ষা হলো—সমস্ত প্রাণে এক ও অভিন্ন পরম সত্যের প্রকাশ। এই দর্শন মানুষকে হিংসা, বিদ্বেষ ও সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে মানবকল্যাণ ও শান্তির পথে পরিচালিত করে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বিশ্বে অস্থিরতা, সহিংসতা ও বিভেদের প্রেক্ষাপটে ঋষি ও সাধুদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। ত্যাগ, সাধনা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে সমাজকে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করাই ঋষি-পরম্পরার প্রধান লক্ষ্য।”
তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মহারাজ বলেন, “নৈতিকতা, মানবিকতা ও আত্মঅনুসন্ধানের চর্চার মধ্য দিয়েই একটি শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও কল্যাণকর সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব।”
দ্বাবিংশতম
আন্তর্জাতিক
ঋষিকুম্ভ
ও
কুম্ভমেলা
উদযাপন
পরিষদের
আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট অনুপম বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত
সম্মেলনে
উপস্থিত
ছিলেন- শ্রীগুরু
সংঘের
সাধারণ
সম্পাদক শ্রী বিমল কান্তি দেব, ঋষি
অদ্বৈতানন্দ
পরিষদ
বাংলাদেশ
কেন্দ্রীয়
কমিটির
সাধারণ
সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ্রী কাঞ্চন বিশ্বাস, অর্থ
সম্পাদক শ্রী তড়িৎ কান্তি গুহ, মহিলা
শাখার
সভানেত্রী শ্রীমতি পান্না পাল,
এছাড়াও অলোক দাশ, শ্রী প্রদীপ কান্তি গুহ, শ্রী ঝুন্টু কুমার দাশ, পরিষদের
কর্মকর্তা দোলন দাশসহ উদযাপন
পরিষদের
বিভিন্ন
পর্যায়ের
নেতৃবৃন্দ
ও
ধর্মীয়
সংগঠনের
প্রতিনিধিরা
উপস্থিত
ছিলেন।
উল্লেখ্য, দ্বাবিংশতম আন্তর্জাতিক ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা উপলক্ষে প্রতিদিন আন্তর্জাতিক ঋষি সম্মেলন, ধর্মীয় আলোচনা, ভজন-কীর্তন, যোগ-ধ্যান, সাধনা ও মানবকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে পালন করা হচ্ছে।




No comments:
Post a Comment