বাঁশখালীতে কিশোরীর বাল্যবিবাহের অভিযোগ: তদন্তের নির্দেশ, এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া - একুশে মিডিয়া একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যম হিসেবে সংবাদ পরিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

ক্লিক করুন

Breaking News

Home Top Ad

নিউজের উপরে বিজ্ঞাপন

Tuesday, 14 April 2026

বাঁশখালীতে কিশোরীর বাল্যবিবাহের অভিযোগ: তদন্তের নির্দেশ, এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া

বাঁশখালী সংবাদদাতা:

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিবাহের অভিযোগ উঠেছে। প্রবাসী এক যুবকের সঙ্গে গোপনে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল ছনুয়া ইউনিয়নের নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওমানপ্রবাসী আইয়ুব আলীর সঙ্গে শেখেরখীল ইউনিয়নের নম্বর ওয়ার্ডের ওসমান গণির মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকার বিয়ে সামাজিকভাবে সম্পন্ন করা হয়। আয়েশা শেখেরখীল ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার্থী।

ঘটনায় শিক্ষার্থীটির সহপাঠী শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বাল্যবিবাহের অভিযোগ তুলে শেখেরখীল ইউনিয়ন পরিষদের , নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য শামসুজ্জাহান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও অভিভাবকরা গোপনে বিয়ের আয়োজন করেন। বিষয়টি জানতে পেরে ইউপি সদস্য শামসুজ্জাহান একাধিকবার বিয়ে বন্ধের চেষ্টা করলেও তা উপেক্ষা করা হয়। পরে গোপনে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

ছনুয়া ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী আবদুল হালিম জানান, তিনি বিয়েটি সম্পন্ন করেননি। তার দাবি, মেয়ের বয়স কম হওয়ায় তিনি বিয়ে পড়াতে অস্বীকৃতি জানান। পরে অন্য এক ধর্মীয় ব্যক্তির মাধ্যমে কাবিননামা ছাড়াই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

ইউপি সদস্য শামসুজ্জাহান বলেন, “মেয়েটি দাখিল পরীক্ষার্থী। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। অবস্থায় তার বিয়ে হওয়ায় পড়ালেখা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কাবিননামা ছাড়াই কয়েকদিন ধরে মেয়েটি স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

শেখেরখীল ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার নোমান বলেন, “বাল্যবিবাহ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

বাঁশখালী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জানান, বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা পেয়েছেন। তিনি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জামশেদুল আলম বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের বিধান অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে বা মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া, অভিভাবক বা সংশ্লিষ্ট কেউ বাল্যবিবাহে সহযোগিতা করলে তারাও আইনের আওতায় শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন।

No comments:

Post a Comment

নিউজের নীচে। বিজ্ঞাপনের জন্য খালী আছে

Pages