একুশে মিডিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি পরিবহন সিন্ডিকেটের কারণে যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার ব্যবহার করেন প্রতিদিন হাজারো প্রবাসী, বিদেশগামী যাত্রী ও পর্যটক। কিন্তু বিমানবন্দর এলাকায় অসাধু চক্রের দৌরাত্ম্যে তাদের অভিজ্ঞতা হয়ে উঠছে দুর্বিষহ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিমানবন্দর চত্বরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনো গাড়িকে যাত্রী পরিবহন করতে দিচ্ছে না। বিদেশফেরত যাত্রীদের অনেক সময় জোরপূর্বক সিন্ডিকেটভুক্ত গাড়িতে উঠতে বাধ্য করা হচ্ছে। অন্যথায় লাগেজ আটকে রাখা, পথরোধ বা মানসিক হয়রানির মতো ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে।
বিশেষ করে দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে দেশে ফেরা প্রবাসীরা এই হয়রানির শিকার হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং নিরাপত্তাহীন পরিবেশ একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কর কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফ শনিবার ১১ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেন, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রীদের জিম্মি করে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে। তার মতে, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাবেই এ সমস্যা দিন দিন বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কার্যকর প্রতিকার পাচ্ছেন না। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টিকে “বাহিরের সমস্যা” হিসেবে উল্লেখ করে দায় এড়িয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এমনকি নিরাপত্তা সংস্থার কাছেও অভিযোগ জানালে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন যাত্রীরা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ ধরনের অনিয়ম দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের প্রথম অভিজ্ঞতা নেতিবাচক হলে তা দেশের সেবা ও প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি হয়ে পড়েছে। সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া, স্বচ্ছ পরিবহন ব্যবস্থা চালু, নির্ধারিত ভাড়া তালিকা বাস্তবায়ন এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। পাশাপাশি দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা, সিসিটিভি নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারকে কোনোভাবেই অসাধু সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়া যায় না। যাত্রীদের নিরাপত্তা, সম্মান ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই সময়।




No comments:
Post a Comment