বাঁশখালী প্রতিনিধি:
টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং সমুদ্রের জোয়ারের প্রভাবে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। উপজেলার পৌরসভাসহ অন্তত ১৪টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যায় শত শত কাঁচা বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) রাত প্রায় ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে উপজেলার সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্গত এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহে চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার পুকুরিয়া, সাধনপুর, খানখানাবাদ, বাহারছড়া, কালীপুর, বৈলছড়ি, কাথরিয়া, সরল, শীলকূপ, চাম্বল, গণ্ডামারা, শেখেরখীল, পুঁইছড়ি ও ছনুয়া ইউনিয়নসহ অধিকাংশ এলাকার বন্যা পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। ইতোমধ্যে পাঁচ শতাধিক মাটির তৈরি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে। নিম্নাঞ্চল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মসজিদের মাইক ব্যবহার করে সতর্কবার্তা প্রচার, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পানিবন্দি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বৈলছড়ি এলাকা থেকে শিশুসহ ১৩ জন এবং ছনুয়া ও শেখেরখীল এলাকা থেকে আরও সাতজনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, সরকারি বরাদ্দের ত্রাণসামগ্রী পাওয়া মাত্রই দ্রুত বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ, প্লাবিত এলাকা এবং সার্বিক পরিস্থিতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।




No comments:
Post a Comment