রুশমী আক্তার, লোহাগাড়া প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে সুখছড়ি খালের ভাঙনে একটি গ্রামীণ সড়কের বড় অংশ বিলীন হয়ে গেছে। এতে সড়কটি দিয়ে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার শত শত মানুষ। বিশেষ করে স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, পথচারী ও সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ৬নং ওয়ার্ডের ডলুকুল হয়ে সুখছড়িকুল সড়কটি কামাল কোম্পানির বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এসে সুখছড়ি খালের ভাঙনের কবলে পড়েছে। সড়কের একটি বড় অংশ খালগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সেখানে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় অনেককে বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়ির আঙিনা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও বয়স্ক ব্যক্তিরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত বছরের ভারী বর্ষণের সময় খালের ভাঙনে সড়কটির ওই অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে ভাঙন বাড়তে থাকায় সড়কের পুরো অংশই বিলীন হয়ে যায়। এখনো পর্যন্ত সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয়রা আরও জানান, সড়কের পূর্ব পাশে থাকা আলকুনিপাড়া সড়কটিও ভারী বর্ষণের সময় পানিতে ডুবে যায়। ফলে বর্ষাকালে এলাকার মানুষের চলাচলের বিকল্প পথও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
লোহাগাড়া সুখছড়ি সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ইউনুচ বলেন, ‘আগে এলাকার মানুষের কাছ থেকে চাঁদা তুলে ফান্ড গঠন করে নিজেদের উদ্যোগে সড়কটি কয়েকবার মেরামত করা হয়েছে। পূর্বপুরুষের সময় থেকে মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে আসছেন। কিন্তু কামাল কোম্পানির বাড়ির সংলগ্ন অংশটি ভারী বর্ষণে খালের ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য এনামুল হক বাবুল বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ থেকে ভাঙনকবলিত এলাকায় ইট দিয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ভারী বর্ষণে সড়কের পুরো অংশই বিলীন হয়ে যায়। ফলে এলাকার মানুষ বর্তমানে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।’
লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল মন্নান বলেন, ‘সুখছড়ি খালের ভাঙনে সড়কের একটি অংশ বিলীন হয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগ ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।’
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে তা তালিকাভুক্ত করা হবে। এরপর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য উপসহকারী প্রকৌশলীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই ভাঙনকবলিত সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক করা হোক।




No comments:
Post a Comment