একুশে মিডিয়া নিজস্ব প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পারিবারিক কলহের জেরে ছেলের লাঠির আঘাতে মো. শাহজাহান (৪৯) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত মো. শাহজাহান বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের কোকদণ্ডী নিদাগাজীর বাড়ির মৃত নুরুল আলমের প্রথম পুত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য মো. শাহজাহান তাঁর ওমানপ্রবাসী ছেলে মো. শওকতের পরামর্শে ঋণ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে শওকত ওমান থেকে দেশে ফিরে বাবা-মাকে না জানিয়ে বিয়ে করে চট্টগ্রাম শহরে বসবাস শুরু করেন। এদিকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে মো. শাহজাহান আর্থিক সমস্যায় পড়েন। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন সময় তর্ক-বিতর্কও হয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে ঋণ পরিশোধের বিষয় নিয়ে মো. শাহজাহানের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁর মেয়ে ও পুত্রবধূর সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় মেয়েকে শাসন করতে গিয়ে মো. শাহজাহান তাকে চড়-থাপ্পড় দেন। একই সময় তাঁর পুত্রবধূর গায়েও একটি চড় লাগে বলে স্থানীয় সূত্র জানা যায়।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মো. শাহজাহানের ছেলে ওমান মো. শওকত (২৪) একটি গাছের লাঠি দিয়ে বাবাকে আঘাত করেন। এতে মো. শাহজাহান গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
কালীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম বলেন, মেয়ে ও পুত্রবধূর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মো. শাহজাহান মেয়েকে শান্ত করার জন্য চড়-থাপ্পড় দেন। এ সময় পুত্রবধূর গায়েও একটি চড় লাগে। পরে তাঁর ছেলে দৌড়ে এসে বাবাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
রামদাস মুন্সির হাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দুলাল হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের জেরে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




No comments:
Post a Comment