![]() |
একুশে মিডিয়া, চট্টগ্রাম রিপোর্ট:
পায়ের অস্ত্রোপচারের (অপারেশন) জন্য ৪ সেপ্টেম্বর ভর্তি করা হয় চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার এলাকার পিপলস হাসপাতালে। কক্সবাজার জেলার চকরিয়ার বাসিন্দা আবু তালেব লিটনকে (২১) ওইদিন রাতে অপারেশন সম্পন্ন হয় তার।।”।
ঘণ্টা খানেক পর লিটনকে তার স্বজনেরা দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপরাগতা জানায়। এভাবে দুদিন কেটে গেলেও স্বজনেরা লিটনের দেখা না পেয়ে পুলিশের দ্বারস’ হন। পরবর্তীতে নিজেরা খোঁজাখুঁজি করে লিটনকে আবিষ্কার করেন পাশের সার্জিস্কোপ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)।।”।
এর আগে রোববার লিটনের বাবা বশির আহমেদ ছেলের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও অতিরিক্ত টাকা দাবির অভিযোগ এনে পাঁচলাইশ থানায় জিডি করেন।।”।
এ তিন চিকিৎসক হলেন ডা. আর রহমান, ডা. আবদুল আহাদ ও ডা. তপন।
গতকাল সোমবার সার্জিস্কোপ হাসপাতালে কথা হয় লিটনের বাবা বশির আহমদ ও ভাই মুসলিম উদ্দিনের সঙ্গে। সুপ্রভাতকে তারা বলেন, অস্ত্রোপচারের আগে লিটন সুস’ ছিল। সবার সঙ্গে আলাপ করে দোয়া চেয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর আমরা লিটনকে দেখতে চাইলে কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করে। এরপর আমাদের না জানিয়ে পার্শ্ববর্তী সার্জিস্কোপ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় লিটনকে।।”।
বশির আহমদ বলেন, অস্ত্রোপচারের আগে দেয়া ভুল ইনজেকশনে (অ্যানেসথেসিয়া) লিটনের এই অবস্থা হয়েছে। ভুল চিকিৎসায় শিকার হয়ে আমার সুস’ সন্তান আজ মৃত্যুপথযাত্রী। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমি পুলিশকে জানিয়েছি।।”।
থানা দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, লিটন ৩ সেপ্টেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পেয়ে কক্সবাজারের স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।।”।
ওইদিন রাতে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য চকবাজার এলাকার পিপলস হাসপাতালে ভর্তি করা হয় লিটনকে। সেখানে চিকিৎসকরা লিটনের অপারেশন করাতে হবে বলে জানান। পরবর্তীতে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে অস্ত্রোপচারের জন্য চিকিৎসকদের সঙ্গে চুক্তি হয়। এরপর লিটনের অপারেশন সম্পন্ন হয়।।”।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অপারেশন শেষে লিটনকে দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাত দেখায়। পরে তাকে অক্সিজেন দিতে হবে বলে জানায়। এরপর কাউকে না জানিয়ে লিটনকে সার্জিস্কোপ হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়।।”।
তবে পিপলস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক ডা. সুভাষ চন্দ্র সূত্রধর বলেন, স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে রোগীকে অন্য হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের হাসপাতালে আইসিইউ নেই। রোগীর অবস্থা ভালো না বিধায় স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে অন্য হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। কিন্তু এখন তারা মিথ্যা কথা বলে অভিযোগ করছে।।”।
লিটনের বাবার অভিযোগের জবাবে ডা. সুভাষ বলেন, অ্যানেসথেসিয়ার ভুল কিংবা অন্যান্য কারণে রোগীর অবস্থা খারাপ হতে পারে। সেগুলো রিপোর্টে উল্লেখ থাকবে। কিন’ না জেনে এধরনের অভিযোগ করা ঠিক না।।”।
পুলিশ জানিয়েছে, বশির নামে এক ব্যক্তি তার ছেলেকে ভুল চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের বিনিময়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ এনে থানায় জিডি করেছেন।।”।
পাঁচলাইশ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়ালিউদ্দিন আকবর বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত চলছে।।”।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২২ মে মৃত নবজাতকের লাশ ডাস্টবিনে ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠে পিপলস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। পরে স্বজন ও পুলিশের দাবির মুখে ফেলে দেওয়া লাশ সিটি করপোরেশনের ময়লার ভাগাড় থেকে খুঁজে স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একুশে মিডিয়া।”।




No comments:
Post a Comment