একুশে মিডিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক:
পাহাড় ধস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বন্যাকবলিত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে হবে, যাতে কোনো মানুষ ক্ষুধার্ত না থাকে। একই সঙ্গে পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, পাহাড় ধসের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাণিসম্পদসহ বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে, তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও সিভিল সার্জনদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত খাদ্য ও ত্রাণ পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি বন্যা-পরবর্তী সময়ে চর্মরোগ, ডায়রিয়া, আমাশয়সহ পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সিভিল সার্জন ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্গম গ্রামগুলোতে দ্রুত ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে নিশ্চিত করতে হবে।
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা না করলে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়বে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা, খাল ও হাওর সংরক্ষণ এবং জলাধারগুলোকে বাধামুক্ত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ব্যক্তিগত বা স্বল্পমেয়াদি সুবিধার জন্য প্রাকৃতিক জলপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অপূরণীয় ক্ষতি হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




No comments:
Post a Comment