একুশে মিডিয়া, প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বৈলগাঁও এলাকায় অবস্থিত হযরত ঝিনজি ফকির শাহ্ আউলিয়া (রহ.)–এর ওয়াকফভুক্ত মাজার ও সংলগ্ন মসজিদে ভাঙচুর, লুটপাট এবং জোরপূর্বক দখল করে ওরশ আয়োজনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে মাজারের মতোয়াল্লী পরিবার ও পরিচালনা কমিটি।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে মাজারের মতোয়াল্লী নাগু মিয়ার নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি নিজেই। এ সময় তাঁর সন্তান রফিক আহমদসহ স্থানীয় নাছির উদ্দীন, মো. জসিম উদ্দিন, রকিবুল হাসান, বশর আহমদ এবং মাজার ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, হযরত ঝিনজি ফকির শাহ্ আউলিয়া (রহ.)–এর মাজারটি বংশানুক্রমিকভাবে পরিচালিত একটি অলি ওয়ারিশ ওয়াকফ এস্টেট। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ওয়াকফ প্রশাসনের ইসি নম্বর–২১৭০০ অনুযায়ী ২০২৩ সালে সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত মতোয়াল্লী হিসেবে নাগু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাজারের খাদেম ও তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এছাড়া সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মরহুম জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর আমলে পাঁচজন চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একটি স্থানীয় সালিশ বৈঠকে তাঁর পক্ষেই রোয়েদাদ প্রদান করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, ওয়াকফ এস্টেটের অনুমোদনক্রমে ২০১২ সালে মাজার সংলগ্ন একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করেন মতোয়াল্লী নাগু মিয়া। মাজার ও মসজিদের যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যয়ভার দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তাঁর পরিবার বহন করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি মো. দিলদার, জিয়াউদ্দীন, আহমদুর রহমান, বেলাল, আবু বক্কর, ইব্রাহীম, তমিজ উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, দেলোয়ার, আজিজ ও শফিকসহ স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে মাজার ও মসজিদে ভাঙচুর চালায়, মালামাল লুটপাট করে এবং জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে। এ সময় মতোয়াল্লী পরিবারের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে বলেও দাবি করেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিপক্ষ ইতোমধ্যে জোরপূর্বক মাজার দখল করে আগামী ২৬ জানুয়ারি ওরশ আয়োজনের প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বাঁশখালী সেনাবাহিনী ক্যাম্পসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ দায়েরের পরও প্রতিপক্ষের লোকজন প্রকাশ্যে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রাখায় বর্তমানে মতোয়াল্লী নাগু মিয়া ও তাঁর পরিবারসহ স্থানীয় এলাকাবাসী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা। সংবাদ সম্মেলনে ওয়াকফ এস্টেটের অনুমোদনপত্র, মতোয়াল্লী নিয়োগ আদেশ এবং স্থানীয় সালিশের রোয়েদাদসহ বৈধ কাগজপত্রের অনুলিপি সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ একটি উশৃঙ্খল প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ওরশের অজুহাতে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি ও সংঘাত উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এতে এলাকায় পুনরায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে তারা মনে করেন।
এ অবস্থায় এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং হযরত ঝিনজি ফকির শাহ্ আউলিয়া (রহ.)–এর মাজার ও সংলগ্ন মসজিদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।




No comments:
Post a Comment